Sunday, December 10, 2023

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এক বছরে ২২ কোটি টাকা দান

চলতি বছরে চারবার খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স। এ চারবারে মোট ২১ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ১৮১ টাকা পাওয়া গেছে। টাকার পাশাপাশি হীরা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ।

সবশেষ শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় মসজিদের ৯টি দানবাক্স খুলে ২৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। ২২০ জনের একটি দল ১৫ ঘণ্টা গণনা শেষ রেকর্ড ছয় কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া গেছে বলে জানায়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতিতে মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

এরআগে গত ১৯ আগস্ট মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ২৩ বস্তায় পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৩২৫ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরা পাওয়া যায়।

তার আগে ৬ মে রমজানের কারণে চারমাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ১৯টি বস্তায় পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৮৯ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরা পাওয়া গিয়েছিল।

এছাড়া চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিন মাস একদিন পর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ২০টি বস্তায় তখন পাওয়া যায় চার কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরা।

ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আটটি লোহার দানবাক্স থাকলেও এবার আরও একটি দানবাক্স বাড়ানো হয়েছে। দানের পরিমাণ বাড়ায় এখন পাগলা মসজিদের দানবাক্সের সংখ্যা ৯টি।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্র জানিয়েছে, মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। এছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে।

মসজিদটিকে আন্তর্জাতিকমানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। খুব শিগগির এর কাজ শুরু হবে। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৩০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় এক সাধকের বাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝপথে প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে সব ধর্মের লোকজনের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়। ওই সাধকের দেহাবসানের পর তার উপাসনালয়টিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন এলাকাবাসী।

কিন্তু ওই সাধকের দেহাবসানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে স্থানীয় এমনকি দেশের দূর-দূরান্তের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে সেখানে। মানত কিংবা দান খয়রাত করলে মনের বাসনা পূরণ হয়—এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ ছুটে আসেন এ মসজিদে। তারা নগদ টাকা-পয়সা, সোনা ও রুপার অলংকারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি দান করেন।

বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার এ মসজিদে মানত নিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ঢল নামে। আগতদের মধ্যে মুসলিমদের বেশিরভাগই জুমার নামাজ আদায় করেন মসজিদে। এ ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরেরও পুরোনো বলে জানা যায়।

The post পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এক বছরে ২২ কোটি টাকা দান appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/w6RLPMp

Thursday, November 2, 2023

প্রফেসর মাওলানা হামীদুর রহমান আর নেই

হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও মুহিউস সুন্নাহ মাওলানা শাহ আবরারুল হক ছাহেব রহ.-এর খলীফা, প্রফেসর হযরতখ্যাত মাওলানা প্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তার ছেলে মুহাম্মদ আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আজ দুপুর ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তিনি আরো জানান, ঢাকার ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে তিনি ভর্তি ছিলেন। ডা. রাশিদুল হাসানের অধীনে চিকিৎসা চলছিল। বুকে প্রচণ্ড কফ জমে ছিল। অক্সিজেন উঠানামা করছিলো।

এর আগে তার আরেক ছেলে মুহাম্মদ মাসিহুর রহমান জানান, এর আগে আব্বুর দুইবার করোনা হয়েছে। এছাড়া বার্ধক্যজনিত নানা রোগে তিনি ভোগছিলেন। আব্বুর মাগফেরাতের জন্য আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

The post প্রফেসর মাওলানা হামীদুর রহমান আর নেই appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/JIErOm5

Saturday, October 28, 2023

কেমন আছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘দারুল আরকাম মাদরাসা’

|| তাসনিফ আবীদ ||

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে ২০১৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প’(৬ষ্ঠ পর্যায়)-এর আওতায় দেশের প্রতি উপজেলায় যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, সেখানে ‘দারুল আরকাম’ নামে ১০১০টি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৮ সালে ১০১০জন কওমি ও ১০১০জন আলিয়া মাদরাসার সনদধারী আলেম নিয়োগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

শুরুতেই ছিল শঙ্কা-
কিন্তু একটি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা দেখভাল করার মতো লোকবল, সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ছিলো না। যে কারণে শুরু থেকেই প্রকল্পটি নিয়ে নানা কথা চলছিলো। প্রকল্পটির ভবিষ্যত নিয়েও দেখা দিয়েছিলো নানা শঙ্কা ও উদ্বেগ। সেই শঙ্কা পদে পদে বাস্তববে রূপ নেয়।

শঙ্কা রূপ নেয় অনিশ্চয়তায়-
‘দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসা’ ছিল একটি প্রকল্প। কওমি সনদের স্বীকৃতির পর এটিই প্রথম কওমি আলেমদের সরকারি নিয়োগ। শুরুতে ইফার নিজস্ব সিলেবাসে ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান শুরু হলেও ২০১৯ সালে এসব মাদরাসা ৫ম শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়। কিন্তু একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয় প্রকল্পের মেয়াদ। এক সময় এই প্রকল্পটিও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প থেকে বাদ পড়ে। এরপর থেকে শিক্ষকরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা শঙ্কা দেখা দেয়। তবে ধর্ম-মন্ত্রণালয়ের বিশেষ চাহিদায় প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রাখা হয়।

দারুল আরকামের শিক্ষকরা জানান, ‘২০১৯ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে একটি জটিলতা তৈরি হবে এটা আমরা আগে থেকেই বুঝেছিলাম। সেজন্য বারবার আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবি ছিল যেন সরকারের বিধি অনুসরণ করে এসব মাদরাসাগুলো এমপিওভুক্ত করা হয়। কিন্তু সেটা হয়নি। করোনা মহামারীতে এ কারণে আমাদেরকে খুব কষ্টে জীবন-যাপন করতে হয়।’

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আলোর মুখ-
২০২০ সালের পুরো বছরটিই এভাবে কাটে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার দুই হাজার ২০ জন শিক্ষকের। ওই সময় তাদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারক লিপি, বিভিন্ন মন্ত্রীদের কাছে স্মারক লিপি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারক লিপি ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হয়। এসব কর্মসূচীর পর আবারও আলোর মুখ দেখে প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠিত ‘দারুল আরকাম’।

২ শ’ কোটি টাকার প্রকল্প-
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদান করতে ‘দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন ও পরিচালনা’ নামে নতুন করে ১৯৯ কোটি ৬ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর।

প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়: (ক) জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত মোট ১০১০টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখা; (খ) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি ও দেশে স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি; (গ) আরবি ভাষাশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতার মানোন্নয়ন; (ঘ) সাধারণ শিক্ষিতদের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিতদের বিশেষ করে সরকার স্বীকৃত সনদধারী আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ আলেমদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

প্রকল্পটির প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রাখা হয়: (ক) ৩০৩০ জনের সম্মানি (২০২০ জন শিক্ষকের মাসিক সম্মানি ও ১০১০ জন সহায়ক কর্মীর সম্মানি); (খ) কমিটির সভা ও অন্যান্য ব্যয়; (গ) ৪০৫০ জন প্রশিক্ষণ; (ঘ) ৩৮৩৮০টি শিক্ষা ও শিক্ষণ উপকরণ, ৭৪০৩টি আসবাবপত্র, ৩০৪৩টি অফিস সরঞ্জাম ও ৮টি কম্পিউটার ক্রয়; (ঙ) ১০১১টি ইন্টারনেট/ফ্যাক্স, ৩০৩৪টি বইপত্র/সাময়িকী, ৪০৪০টি প্রচার/বিজ্ঞাপন, ৫৩৫৯২টি মুদ্রণ/বাঁধাই; (চ) ২টি যানবাহন চুক্তিভিত্তিক ব্যবহার।

কিছুটা স্বস্তিতে দারুল আরকামের শিক্ষকরা-
প্রকল্পটি ২০২২ সালে পাশ হলেও এর মেয়াদকাল যেহেতু ২০২১ থেকে ধরা হয় এবং ধর্ম-মন্ত্রণালয়ের বিশেষ চাহিদায় দারুল আরকামের কার্যক্রম শুরু থেকেই চলমান রাখা হয়, তাই চলতি বছরের মাঝামাঝিতে শিক্ষকদের আটকে থাকা বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়। পাশাপাশি আগের মেয়াদের ১১ হাজার ৩০০টাকা বেতনকে বাড়িয়ে এই মেয়াদে করা হয় ১২ হাজার ৫০০টাকা। এসবের পর দারুল আরকামের শিক্ষকদের মনে কিছুটা প্রশান্তি এলেও জটিলতা তাদের পিছু ছাড়ছে না।

দারুল আরকামে যত জটিলতা-
দারুল আরকামের শিক্ষকদের মতামত হচ্ছে, মুসলিম ছাত্ররা যেন প্রাথমিক ইসলামের জ্ঞান অর্জন করতে পারে সে জন্য প্রত্যেক উপজেলায় ২ টি করে এবতেদায়ি দারুল আরকাম মাদ্রাসা স্হাপন করা হয়েছে; যা প্রশংসার যোগ্য। ইসলামি ফাউন্ডেশনের আওতায় এই মাদ্রাসা সারা দেশেই সুনাম অর্জন করছে। কিন্তু মাদ্রাসার জাতীয় করণের উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো আটকে আছে, যা হাজার হাজার শিক্ষকদেরকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে।

তাদের দাবি, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোন প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত রাজস্বখাতে যায়নি। তাই দারুল আরকাম এবতেদায়ি মাদ্রাসাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা বিভাগের অধীনে নিয়ে জাতীয়করণ করা হোক। পর্যাপ্ত ভবন নির্মাণ করা হোক। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে বিনোদনের ব্যবস্হা করা হোক।’ তাহলে প্রাইমারী স্কুলের মতো দারুল আরকামের শিক্ষকরাও ইসলামের শিক্ষা শিশুদের অন্তরে ঢেলে দিয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করতে সক্ষম হবে।

দারুল আরকামে শিক্ষকতা করেন ময়মনসিংহের ভালুকার এমন এক শিক্ষক জানান, দারুল আরকামে ছাত্র-ছাত্রী ধরে রাখতে হলে উপবৃত্তি প্রয়োজন। সরকার প্রাইমারি সেক্টরে ছাত্র-ছাত্রী ধরে রাখার জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্হা করেছে। এমনকি, ইতিমধ্যে দেখেছি উপবৃত্তি দ্বিগুণ করেছে। দরিদ্র এলাকায় অভিভাবকরা এসব বিষয় মাথায় রাখে। তাই তারা তাদের সন্তানকে অনেক সময় উপবৃত্তির জন্য প্রাইমারিতে পাঠিয়ে দেয়। আমাদের দাবী, দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসায় উবৃত্তি চালু করা হোক। না হয় দরিদ্র এলাকায় শিক্ষার্থী ধরে রাখতে পারবে না দারুল আরকাম।

এদিকে দারুল আরকামের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় প্রকল্পটির আরো কিছু জটিলতার কথা। দারুল আকরামের সিলেবাস নিয়ে দ্রুতই কাজ করার দাবি তাদের। বর্তমানে দারুল আরকাম মাদ্রাসায় কিরাআতুল কুরআন, আল-হাদীসুন্নাবী, আল-লুগাতুল আরাবিয়া, আদ্দীনিয়াত, সমাজ বিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয়। তারা জানান, শিশুদের জন্য চলমান সিলেবাসটি খুবই কঠিন হয়ে যায়। তাছাড়া বইয়ের পরিমাণও অনেক। শিশুদের জন্য সবগুলো বই আত্মস্থ করা জটিল হয়ে যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত শ্রেণি শিক্ষকের অভাবও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হওয়া এই মাদরাসা ব্যবস্থাকে আরো কীভাবে সৃজনশীল করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

এদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক শিক্ষক জানান, দারুল আরকামে চাকরি করছি ঠিক কিন্তু কোন রকম শান্তিতে নাই। পোস্টিং নিজ উপজেলা থেকে প্রায় ১১০ কি.মি. দূরে। এছাড়া থাকার জায়গা নেই। পেশাব-পায়খানার ভাল জায়গাও নেই। কোন রকম একটি ছিল, তা বন্যায় একবারে ভেঙ্গে গেছে। এমন আরো অনেক সমস্যাই পোহাতে হচ্ছে।

আবারো অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে দারুল আরকাম-
দারুল আরকাম একটি অলটারনেটিভ শিক্ষা ব্যবস্থা। এটা শিশু ও গণশিক্ষার মতো নয়। আর কোনো প্রকল্প বা প্রজেক্ট সারাজীবন চলে না। দারুল আরকাম মাদরাসার চলমান প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এবারের মেয়াদ শেষ হলে ২০২০ সালের মতো আবারো বড় কোনো সঙ্কায় হয়তো পড়তে পারে দারুল আরকামের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ঝরে পড়তে পারে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী। তাই যত দ্রুত সম্ভব একে রাজস্বকরণের দাবি তুলছে সংশ্লিষ্টরা।

The post কেমন আছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘দারুল আরকাম মাদরাসা’ appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/loBuQ8S

Tuesday, October 3, 2023

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন যে তিন বিজ্ঞানী

ফাতেহ ডেস্ক:

পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর নোবেল পুরস্কার পেলেন পিয়া অগোস্টিনি, ফেরেঙ্ক ক্রুসজ এবং অ্যান ল’হুইলার। ইলেকট্রন গতিবিদ্যার গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সুইডেনের র‌য়্যাল সুইডিশ একাডেমি বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

ইলেকট্রন গতিবিদ্যায় পরীক্ষামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে আলোর অ্যাটোসেকেন্ড পালস তৈরি করার বিষয়টি ওই তিনজন বিজ্ঞানীর গবেষণায় দেখানো হয়েছে। তার তিনজন এমন আলোর ফ্ল্যাশ (ঝলকানি) তৈরি করেছেন যেগুলো ‘অতি দ্রুত চলাচলকারী’ ইলেকট্রনের স্ন্যাপশট নিতে পারে।

প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার শুরু হয় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। প্রথম দিন ঘোষণা করা হয় চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল। ছয়টি বিভাগে ছয় দিন নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হয় নরওয়ে থেকে। সাহিত্য ও অর্থনীতির মতো অন্য পুরস্কারগুলো সুইডেন থেকে ঘোষণা করা হয়। প্রতিটি পুরস্কারের মূল্য ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ৯ লাখ ডলার)।

১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া শুরু হয়। এরপর থেকে ১১৬ বার এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২২২ জন পদার্থবিজ্ঞানী সম্মানজনক এই পুরস্কার জিতেছেন।

মূলত মোট ছয়টি বিভাগে ছয় দিনে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে সোমবার (২ অক্টোবর) এ বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়। প্রথম দিন ঘোষণা করা হয়েছে চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন করোনাভাইরাসের টিকার দুই গবেষক। যৌথভাবে নোবেলজয়ী এই দুই গবেষক হলেন- হাঙ্গেরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী কাটালিন কারিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ড্রিউ ওয়েইজম্যান।

এদিকে বুধবার (৪ অক্টোবর) রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর ৫ অক্টোবর সাহিত্যে আর ৬ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। দুই দিন বিরতি দিয়ে ৯ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পর্দা নামবে।

The post পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন যে তিন বিজ্ঞানী appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/7BJj0di

Saturday, September 23, 2023

মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন

ফাতেহ ডেস্ক:

করোনার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারে ৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড। বাংলাদেশি টাকায় এ অর্থের পরিমাণ ৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

ওয়াশিংটন সময় শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাংকে প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশকে এই ঋণ ক্রেডিটটি বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) দেওয়া হয়েছে। যা ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরের মেয়াদে পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক জানান, বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লিঙ্গ সমতা অর্জনকারী প্রথম কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন দীর্ঘায়িত স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার ওপর গভীরভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং অনেক দরিদ্র মেয়েকে স্কুল ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে। বিশ্বব্যাংক শেখার ফলাফল এবং শিক্ষার গুণমান উন্নত করে শেখার ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। যাতে শিক্ষার্থীরা সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন এবং সমাজে সংগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে স্নাতক হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন অপারেশন সরকারের সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রোগ্রামকে সমর্থন করবে। শিক্ষাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে, প্রোগ্রামটি ৬, ৪তম গ্রেডের জন্য গণিত, ইংরেজি এবং বাংলার মতো মূল বিষয়গুলোতে ফোকাস করবে, কারণ এগুলো ভবিষ্যতের শিক্ষার ভিত্তি। এটির লক্ষ্য চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতে দক্ষতা বর্তমান ২৮ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশে এবং বাংলায় ৬৬ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা। ঝরে পড়ার হার কমাতে, প্রোগ্রামটি ৪ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি পেতে সহায়তা করবে। এছাড়া, আরও প্রায় ৭ হাজার ২০০টি স্কুলে পড়ার দক্ষতা উন্নত করার জন্য প্রোগ্রাম থাকবে এবং ১৫ হাজার শিক্ষক তাদের শেখানোর দক্ষতা উন্নত করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রোগ্রামটি মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংকেও সহায়তা করবে এবং কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লক্ষ্যযুক্ত বিদ্যালয়ে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন শিক্ষার ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার করতে প্রোগ্রামটি নতুন অনুমোদিত পাঠ্যক্রমের ডিজিটাইজেশন এবং পর্যায়ক্রমে রোলআউটের পাশাপাশি শেখার পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত প্রতিকারমূলক ক্লাসগুলোকে সহায়তা করবে। এটি সরকারের মিশ্রিত শিক্ষার মাস্টারপ্ল্যানকেও সমর্থন করবে। এছাড়া, ক্লাসে এবং অনলাইন শিক্ষার সংমিশ্রণ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতকৃত সংস্থানগুলো অফার করবে যাতে তারা তাদের নিজস্ব গতিতে শিখতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের দলনেতা টি.এম.আসাদুজ্জামান জানান, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে শিশুদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রাখার জন্য, প্রোগ্রামটি উপবৃত্তি প্রদানের বাইরেও অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যারা বাদ পড়েছেন তাদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করতেও সহায়তা করবে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়, বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে স্কুলগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হলেও মিশ্রিত শিক্ষা ট্র্যাকে শিখতে সাহায্য করবে। এই প্রোগ্রামটি জলবায়ু-স্মার্ট মানসিকতা এবং আচরণকে উত্সাহিত করার জন্য পাঠ্যক্রমের মূলধারার জলবায়ু শিক্ষাকেও যুক্ত করবে।

The post মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/P9kGn4T

Monday, September 18, 2023

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল

ফাতেহ ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে আগের দু’টি শর্তেই মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে। মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়ে এ সংক্রান্ত ফাইল আইন মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খালেদা জিয়া আগের মতোই ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। এই সময় তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। এই দুটি শর্তেই দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

দুটি মামলায় সাজা হওয়ায় কারাবন্দি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত থাকায় তিনি কারামুক্তি রয়েছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায়ের পর তাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার সাজা আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন একই আদালত।

২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারি শুরু হলে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়।

খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির সবশেষ মেয়াদ শেষ হবার কথা ছিলো আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। এর আগেই তার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে অষ্টমবারের মতো খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়লো।

The post খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/qc29Y7l

ওমরার স্বপ্ন চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে

আব্দুল্লাহ আফফান।।

বাংলাদেশ থেকে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হজ ও ওমরা পালন করেন। তাদের অধিকাংশই পুরো জীবন টাকা জমান মক্কা, মদিনায় একবার যাওয়ার জন্য। এই শহর দু’টির সাথে জড়িয়ে আছে ধর্মীয় ভাবাবেগ। নতুন হিজরি সাল শুরুর পর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ওমরা পালন করেছেন ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি মানুষ। নতুন হিজরি বর্ষ শুরুর প্রথম ৬ মাসের ওমরাকারীদের তথ্য জানাতে গিয়ে এমনটাই জানিয়েছে সৌদি হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে ওমরা করেছিল ৫২ হাজার ৮৪৮ জন। সে হিসেবে গত তিন বছরে ওমরাকারী বেড়েছে প্রায় কয়েকগুন।

করোনার আগে এজেন্সিভেদে ওমরার সর্বনিম্ন প্যাকেজ ছিল ৮০ হাজার টাকা। করোনা বিধিনিষেধের কারণে ওমরা পালনে ব্যয় বেড়েছিল কয়েকগুন। চলতি বছর হজ ও ওমরার খরচ কমিয়েছে সৌদি সরকার। সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ৪১৩ সৌদি রিয়াল কমিয়েছে। গত বছর করোনার কারণে আবাসন ও পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা বাধ্যতামূলক ছিল। যা এ বছর শিথিল হয়েছে। তবে সে তুলনায় বাংলাদেশে কমেনি ওমরা খরচ। গত বছর এজেন্সিভেদে ওমরা খরচ ছিল এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা। চলতি বছর ওমরা করতে খরচ হবে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ১০ হাজার পর্যন্ত।

দিন দিন মধ্যবিত্তদের আওয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে ওমরার খরচ। এবিষয়ে জানতে চাইলে ফাতেহ টোয়েন্টিফোরকে হলি টুরিজম বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, হজ ও ওমরা এটি শারীরিক ও আর্থিক এবাদত। শারীরিক সুস্থতা ও আর্থিক সক্ষমদের জন্য হজ ও ওমরা। যাদের আর্থিক সক্ষমতা নেই তারা ওমরা করবে না। এটা তো ফরজ না। আর হজ ফরজ হয় আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে। তাই খরচ বাড়াকে খুব বড় সমস্যা মনে হয় না।

এবিষয়ে স্কাই হলিডেইজের প্রশাসন বিভাগের হেড সাইয়্যেদ মিনহাজ নবী জানিয়েছেন, করোনার পর ভিসার খরচ কিছুটা কমিয়েছে সৌদি আরব। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিমান ভাড়া বেশি। এছাড়া ডলারের রেটও বেশি। এসব কারণে খুব বেশি কমেনি ওমরার খরচ।

ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার দেশগুলোর হজের খরচ একই। তবে আমাদের বিমান ভাড়া তুলনামূলক বেশি। এছাড়া হজের অন্যান্য খরচে কোন পার্থক্য নেই বলে দাবি করেছেন হলি টুরিজম বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শাহাদাত হোসাইন।

শাহাদাত হোসাইন বলেন, সৌদি আরবে যাওয়া ও আসার বিমান ভাড়ায় পার্থক্য রয়েছে। যাওয়ার ভাড়া তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে। অথচ রুট এক, বিমান এক, তেল খরচও এক; তবুও খরচে পার্থক্য হবে কেন? অন্য সময়ের চেয়ে হজের সময় বিমান ভাড়া বেশি রাখা হয়। এমনটা কেন করা হয় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ভালো বলতে পারবে।

জানা যায়, গত বছর ভারতে থেকে হজ করতে খরচ হয়েছে (বাংলাদেশি টাকায়) ৪ লাখ টাকার কম। পাকিস্তানের খরচ হয়েছে (বাংলাদেশি টাকায়) ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৮ টাকা। বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি ভাবে খরচ হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা।

এ বছর বিমান ভাড়া বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাদাত হোসাইন বলেন, প্রতি বছরই আমরা বিমান ভাড়া বিষয়ে কথা বলি। এবছর বিমান ভাড়া কমানো বিষয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে হজ্জ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। চিঠির জবাব এলে এ বছর বিমানের ভাড়া কমবে কিনা সেটা বলা যাবে।

ওমরার খরচ বাড়া-কমার কারণ হিসেবে স্কাই হলিডেইজের সাইয়্যেদ মিনহাজ নবী বলেছেন, এয়ারলাইন্সগুলোর টিকেট গ্রুপ ভিত্তিক আগের থেকে নিতে পারলে খরচ কিছুটা সাশ্রয়ী হয়। সৌদি আরবে লোকাল, ইন্টারন্যশনাল ছুটির কারণে খরচ কম-বেশি হয়। বাইতুল্লাহ থেকে হোটেলের দূরত্ব, রুম ও ট্রান্সপোর্ট শেয়ার, বাসের পরিবর্তে আলাদা গাড়ি ব্যবহারে খরচ বাড়ে। এছাড়া জ্বালানি মূল্য ও ডলার মূল্য বৃদ্ধি তো আছেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওমরা প্রত্যাশী জানান, কাবা ছোঁয়া, রাসূল সা. এর করব জিয়ারত করা সকল মুসলমানের স্বপ্ন। আগের তুলনায় এখন ওমরা করা সহজ। কিন্তু খরচের কারণে ওমরা করতে পারছে না অনেকে। ওমরার খরচ কমলে সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা হয়। তারা ওমরা করার সুযোগ পায়। করোনার পর পর ওমরার খরচ অনেক বেশি ছিল। এখন কিছুটা কমেছে। সরকার অনেক ক্ষেত্রে ভুর্তুকি দেয়। হজ ওমরাতেও যদি কিছুটা ভূর্তুকি দিতো, তাহলে সাধারণ মানুষের ওমরা করতে সহজ হতো।

হজ ও ওমরা সহজ করতে স্বচেষ্ট সৌদি সরকার

সৌদি সরকার হজ ও ওহরা সহজ করার জন্য বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম নুসুক অ্যাপ। এর মাধ্যমে হজ ও ওমরার আবেদন করা যায়। বাংলাদেশ থেকে হজ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও গতিশীল করতে ‘নুসুক’ অ্যাপ উদ্বোধন করেছে সৌদি আরব। এর ফলে বাংলাদেশিদের জন্য সৌদি আরব ভ্রমণ আরও সহজ হবে। ওমরাহ পালনে ব্যক্তিগতভাবেই আবেদন করতে পারবেন আগ্রহীরা। অ্যাপটি ইউরোপ-আমেরিকায় আগেই চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে কমে আসবে এজেন্সি-নির্ভরতা।

The post ওমরার স্বপ্ন চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/0UgLpEf