Showing posts with label Fateh24. Show all posts
Showing posts with label Fateh24. Show all posts

Thursday, October 24, 2024

এ বছর সরকারি অর্থে কেউ হজে যাবে না: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

হজের খরচ কমানোর চেষ্টা চলছে, এ বছর সরকারি অর্থে কেউ হজে যাবে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম।

সরকারি খরচে হজপালন নিয়ে প্রচুর সমালোচনা থাকলেও অনেকেই এ জন্য রীতিমতো তদবরি পর্যন্ত করেন।

প্রতিবছর সরকারি অর্থে অবসরপ্রাপ্ত সচিব থেকে শুরু করে বিচারপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই হজে যান।

চলতি বছর (২০২৪) ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১ জনকে হজ পালনের জন্য সৌদি আরব পাঠায় আওয়ামী লীগ সরকার। এর আগের বছর সরকারি খরচে হজে যান ২৩ জন।

এর আগে ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান জানিয়েছিলেন, সরকারি খরচে ২০২২ সালে ২৫৪ জনকে হজে পাঠানো হয়েছে।

সংসদে তিনি আরও জানান, ২০১৪ সাল থেকে সরকার নির্দিষ্টসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে সরকারি খরচে হজপালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পাঠানোর কার্যক্রম চালু করে। এর মধ্যে ২০২০ ও ২০২১ সালে মহামারি করোনার কারণে কাউকে হজে পাঠানো হয়নি। এই দুই বছর ছাড়া গত সাত বছরে ১ হাজার ৯১৮ জনকে সরকারি খরচে হজে পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে ২০১৪ সালে ১২৫ জন, ২০১৫ সালে ২৬৮ জন, ২০১৬ সালে ২৮৩, ২০১৭ সালে ৩৩৪, ২০১৮ সালে ৩৪০ জন, ২০১৯ সালে ৩১৪ এবং ২০২২ সালে ২৫৪ জনকে সরকারি খরচে হজে পাঠানো হয়।

The post এ বছর সরকারি অর্থে কেউ হজে যাবে না: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/gd26TYH

Saturday, May 18, 2024

ভারতে সত্যিই কি মুসলিমদের সংখ্যা বেড়েছে!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কাউন্সিল (ইএসি) কর্তৃক প্রকাশিত নতুন এক ওয়াকিং পেপারে বলা হয়েছে ১৯৫০ সালের পর ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ৪৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

এ প্রতিবেদেন প্রকাশের পরই তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। দেশটিতে চলতে জাতীয় নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। আর এসব প্রচারণায় মুসলিম সমর্থিত বিরোধীদলের প্রার্থীরা মোদির কঠোর সমালোচনা করছে। অন্যদিকে ভারতের ক্ষমতাসীন পার্টি মোদির দল বিজেপি এই প্রতিবেদনকে সুষ্ঠুভাবে ক্ষতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।

এই প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনার পর প্রশ্ন উঠেছে ভারতে কী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়ছে?

ওয়াকিং পেপারে মূলত ১৯৫০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও এখানে বিশ্বের ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা পাওয়া যায়। অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়াস ডাটা আর্কাইভ (এআডিএ) এটি প্রকাশ করেছে। যা অনলাইনে বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়।

এই প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠী ৪৩.১৫ শতাংশ বেড়েছে। শতাংশ হিসেবে ৯.৮৪ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.৯ শতাংশে। অন্যদিকে ১৯৫০ সালে ২০১৫ সালের মধ্যে হিন্দু জনসংখ্যা কমেছে ৭.৮২ শতাংশ। যা ৮৪.৬৮ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮.০৬ শতাংশে।

মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতে খ্রিষ্টান, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মের জনসংখ্যাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ১৬৭ দেশর জনসংখ্যা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ভুটান।

প্রতিবেদনে দেশটিতে সংখ্যালঘু বৃদ্ধি পাওয়ায় বলা হচ্ছে সংখ্যালঘুরা শুধু নিরাপদই নয় একই সঙ্গে তারা বর্ধনশীলও। যদিও আন্তর্জাতিক একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারতের সংখ্যালঘুরা ধর্মীয়ভাবে স্বাধীন নয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ প্রতিবেদনে দুর্বলতা রয়েছে এবং এটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং এটি নিয়ে সমালোচনা থাকবেই।

যুক্তরাষ্ট্রের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতি এবং ভিজিটিং অধ্যাপক সন্তোষ মেহেরোত্রা বলেন, এটি ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য করা হয়েছে, গবেষণার জন্য নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবেদনটি একটি জরিপের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এতে আদম শুমারির কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ভারতে সর্বশেষ আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে। পরবর্তী আদমশুমারি ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা হয়নি। মোদিও পরবর্তীতে আদমশুমারির নতুন কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা করেননি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যাবিদ এবং মেরি স্ক্লোডোস্কা-কিউরি ফেলো আশিশ গুপ্ত বলেন, ওই প্রতিবেদনে কোনো শুমারির তথ্য যুক্ত করা হয়নি। তাই প্রকাশিত তথ্যে কোনো ভুল থাকলেও নীতিগত দিক দিয়ে কিছু করার নেই। কারণ গত ১৪ বছর ধরে ভারতে আদম শুমারি নেই।

তিনি বলেন, বাস্তবে আমরা যা দেখেছি তা হলো ভারতে হিন্দু জনগোষ্ঠী বাড়ছে। ১৯৫১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ৩ কোটি ৫৪ লাখ মুসলিম জনগোষ্ঠী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ২ লাখে। অন্যদিকে এ সময়ে হিন্দু জনগোষ্ঠী ৩০ কোটি ৩ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৬ কোটি ৬ লাখ। সুতরাং প্রতিবেদনটি নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

The post ভারতে সত্যিই কি মুসলিমদের সংখ্যা বেড়েছে! appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/PzF2hqJ

Wednesday, February 21, 2024

হজের মৌসুমে মক্কা-মদিনায় কাজের সুযোগ

আসন্ন পবিত্র হজ মৌসুমে সৌদি আরবের তিনটি শহরে খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশটির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা, মদিনা ও জেদ্দা শহরে হজের সময় শূন্য পদে বেশ কিছু লোক নিয়োগ দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের ঘোষণামতে পদগুলো হলো হজ কন্ট্রোলার, কাস্টমার সার্ভিস, মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান, ড্রাইভার ও প্রকৌশলী। এসব পদে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।

আগ্রহীদের লিংকে ( https://ift.tt/d0eM8DO ) আবেদন করতে বলা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে বসবাস করা স্থানীয় নাগরিক ও মুসলিম অভিবাসীদের জন্য হজের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এবার সৌদি হজযাত্রীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে চার হাজার ৯৯ রিয়াল থেকে ১৩ হাজার ২৬৫ রিয়ালের মধ্যে চারটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়া হয়। পুরো অর্থ চার ধাপে পরিশোধ করা যাবে।

এর মধ্যে ২০ শতাংশ রমজান মাস শুরুর আগে এবং ৪০ শতাংশ ২০ রমজানের আগে শোধ করতে হবে।

গত বছর করোনা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ হজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৮ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৬০ হাজার ৯১৫ জন বিদেশি মুসলিম ছিলেন।

এদিকে গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে ১৩ কোটি ৫৫ লাখের বেশি মুসলিম ওমরাহ পালন করেন, যা ছিল সৌদি আরবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা। একই বছর ২৮ কোটির বেশি মুসল্লি পবিত্র মসজিদে নববীতে নামাজ পড়েন ও রওজা শরিফ জিয়ারত করেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১ মার্চ হজের ভিসা ইস্যু শুরু হয়ে ২৯ এপ্রিল শেষ হবে। এরপর ৯ মে থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের গমন শুরু হবে।

সূত্র : গালফ নিউজ

The post হজের মৌসুমে মক্কা-মদিনায় কাজের সুযোগ appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/RNGdwD8

Wednesday, January 24, 2024

২০২৩ সালে পবিত্র মসজিদে নববীতে ২৮ কোটির বেশি মুসল্লি

হজ ও ওমরাহ পালনের আগে বা পরে মুসল্লিরা পবিত্র মসজিদে নববীতে যান। ইসলামের দ্বিতীয় এই সম্মানিত স্থানে এসে তাঁরা নামাজ আদায়ের পাশাপাশি প্রিয় নবী (সা.)-এর পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারত করেন এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। গত এক বছরে ২৮ কোটির বেশি মুসল্লি পবিত্র এই মসজিদ পরিদর্শন করেন। গত ২২ জানুয়ারি সৌদি আরবের সংবাদ সংস্থা এই তথ্য জানায়।

মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল অথরিটি এক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৩ সালে ২৮ কোটির বেশি মুসল্লি পবিত্র মসজিদে নববী পরিদর্শন করেন। পবিত্র মসজিদে নববীতে আগত মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত নিশ্চিত করতে এর তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ প্রয়োজনীয় সব সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গত এক সপ্তাহে পবিত্র মসজিদে নববীতে ৫৮ লাখের বেশি মুসল্লি ও দর্শনার্থী উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে এক লাখ ৩০ হাজার ৪০১ জন পুরুষ এবং এক লাখ ১৫ হাজার ৫৫১ জন নারী রয়েছেন।

গত ২৮ জমাদিউস সানি থেকে ৪ রজব পর্যন্ত তাঁরা পবিত্র এই মসজিদে আসেন এবং পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারত করেন। এ সময় মসজিদের নির্ধারিত স্থানে এক লাখ ২৩ হাজার ২০০ জমজমের পানি প্যাক এবং ৯৯ হাজার ৮৩২টি হালকা খাবার বিতরণ করা হয়।

২০২৩ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে ১৩ কোটি ৫৫ লাখের বেশি মুসলিম ওমরাহ পালন করেন, যা ছিল সৌদি আরবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে করোনা-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মুসলিম হজ পালন করেন।

এতে ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫ জন অংশ নেন, যার মধ্যে ১৬ লাখ ৬০ হাজার ৯১৫ জন বিদেশি হজযাত্রী ছিলেন।

সূত্র : সৌদি গেজেট

The post ২০২৩ সালে পবিত্র মসজিদে নববীতে ২৮ কোটির বেশি মুসল্লি appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/TxgnuXL

Tuesday, January 23, 2024

খরচ বাড়ায় মুসল্লিদের হজে আগ্রহ কমছে, বাড়ছে ওমরায়

এবার হজের অর্ধেক কোটাও পূরণ হয়নি। দুই দফা সময় বাড়ানোর পরও কোটা পূরণ হবার আগেই বৃহস্পতিবার হজ নিবন্ধন শেষ করা হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মতিউল ইসলাম শুক্রবার বিকালে ডয়চে ভেলেকে বলেন, “শেষ পর্যন্ত এবার হজে যাওয়ার জন্য ৫৩ হাজারের কিছু বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। আমরা আর সময় বাড়াবো না।”

তিন জানান, ” গতবারের চেয়ে হজ খরচ এবার এক লাখ টাকার মতো কমানো হলেও আগের মতো সাড়া পাওয়া যায়নি।”

গত ১৫ নভেম্বর নিবন্ধন শুরুর পর থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫৩ হাজার ১১৫ জন নিবন্ধন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে এবার এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের হজ করার অনুমতি দিয়েছিল সৌদি আরবের ধর্মমন্ত্রণালয়। হজ চুক্তি অনুযায়ী এখনো কোটা ফাঁকা রয়েছে ৭৪ হাজার ৮৩টি। ফলে মোট কোটার ৫৮ শতাংশ খালি রেখেই হজ নিবন্ধন শেষ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল প্রথম দফা হজ নিবন্ধনের সময়। পরে সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। হজযাত্রীদের সাড়া না পাওয়ায় সর্বশেষ নিবন্ধনের সময় বাড়িয়ে ১৮ জানুয়ারি করা হয়।

মোট ৫৩ হাজার ১১৫ জন হজযাত্রীর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন হাজার ৮০২ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৯ হাজার ৩১৩ জন নিবন্ধন করেছেন। কোটার ৪২ শতাংশ হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন।

খরচ বাঁচাতে অনেকেই এখন ওমরাহর দিকে ঝুঁকছেন: এস শাহাদাত হোসাইন

এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য পাঁচ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা। আর বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে পাঁচ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং আট লাখ ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা। গত বছরের চেয়ে এ বছর সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য এক লাখ ৪ হাজার ১৬০ টাকা কমানো হয়েছে।

গতবারও একই পরিস্থিতি হয়েছিল। কোটার বিপরীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নিবন্ধন কম ছিল। কিন্তু এবার গতবারের চেয়ে সাড়া আরো অনেক কম।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি এস শাহাদাত হোসাইন বলেন, “এ বছর হজ খরচ গত বারের তুলনায় এক লাখ টাকার মতো কমলেও করোনার আগের তুলনায় অনেক বেশি। আর তার বিপরীতে ওমরাহ খরচ অনেক কম। সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকার মধ্যে একজন ওমরাহ করতে পারেন। ফলে খরচ বাঁচাতে অনেকেই এখন ওমরাহর দিকে ঝুঁকছেন।”

“এছাড়া সৌদি আরব হজ নীতিতে অনেক পরিবর্তন আনায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তাদের মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে তারা তাদের ব্যবস্থাপনায়ই মুসলিম দেশ থেকে হজ যাত্রী নেবে। পুরো ব্যবসাটা তারা করতে চায়। অমুসলিম দেশ থেকে তারা এখন অনলাইনে সরাসরি হজ যাত্রী নিচ্ছে। ওমরাহ অনলাইনে করে ফেলেছে। হজও হয়তো পুরোটা অনলাইনে হয়ে যাবে। তখন কোটা থাকলেও হজ এজেন্সির প্রয়োজন থাকবে বলে মনে হয় না,” জানান হাব সভাপতি।

বাংলাদেশে হজ এজন্সি আছে এক হাজার ২৫০টি। এর বাইরে ট্র্যাভেল এজেন্টরাও হজযাত্রীদের নিয়ে কাজ করেন। তাদের হজযাত্রী কমে গেলেও ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য খরচ একই আছে। টিকিট বিক্রিও নির্ধারিত তিনটি এয়ার লাইন্সের অনেক কমে যাবে। ফলে হজ ও ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। কোনো কোনো এজেন্সি হজকেন্দ্রিক ব্যবসা এরই মধ্যে গুটিয়ে নিয়েছে।

এক লাখ টাকা গত বছরের তুলনায় কমিয়েছি, আর কমানো সম্ভব নয়: মতিউল ইসলাম

অ্যাসোসিয়েন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর মহাসচিব আব্দুস সালাম আরেফ জানান,‘ ‘ ২০১৮-১৯ সালের সঙ্গে তুলনা করলে হজের খরচ ৮০ ভাগ বেড়েছে। এটা সব দেশেই। এর সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ায় আরো খরচ বেড়েছে। একজনের হজের খরচ দিয়ে ছয়জন ওমরাহ করতে পারেন। ফলে ওমরাহর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এখন বছরে পাঁচ লাখ মুসলমান ওমরাহ করতে যান।”

তিনি বলেন, “আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে আমরা ট্র্যাভেল এজেন্টরাও ক্ষতির মুখে পড়ছি। টিকিট বিক্রি অর্ধেকের নীচে নেমে গেছে।”

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মতিউল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, “সৌদি আরবে এখন বাসাভাড়া বেড়ে গেছে, ১৭ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়েছে। সেখানে অনেক বাড়ি ভেঙে ফেলায় বাড়ি ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। সব খরচই বেড়েছে। তারপরও আমরা এক লাখ টাকা গত বছরের তুলনায় কমিয়েছি। আর কমানো সম্ভব নয়।”

তার কথা, “এটা ব্যক্তিগত ইবাদত। তারাপরও আমরা নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করেছি। কিন্তু না গেলে তো কিছু করার নেই। তবে ওমরাহর খরচ কম হওয়ার অনকেই ওমরাহ করতে যাচ্ছেন। ওমরাহ যাত্রী দিন দিন বাড়ছে।”

সূত্র: ডিডব্লিউ বাংলা

The post খরচ বাড়ায় মুসল্লিদের হজে আগ্রহ কমছে, বাড়ছে ওমরায় appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/ce9m8iG

Friday, January 19, 2024

করোনার নতুন ধরন বাংলাদেশেও শনাক্ত

পাশের দেশ ভারতে আতঙ্ক ছড়ানো করোনাভাইরাসের নতুন ধরন জেএন-১ বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে। পাঁচজনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন ধরনটি পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

জেএন-১ উপধরন শনাক্ত হওয়া পাঁচজনের মধ্যে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের রয়েছেন। প্রত্যেকেই ভালো আছেন। এ নিয়ে উদ্বেগের কিছুই নেই। এদের মধ্যে কারও দেশের বাইরে থেকে আসার কোনো তথ্য নেই। তারা দেশেই ছিলেন।

মাস্ক পরা ও ভ্যাকসিন নেয়ার পরামর্শ

এদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় সতর্কতামূলক মাস্ক পরার পাশাপাশি টিকার পরবর্তী ডোজ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতর।

১৩ জানুয়ারি অধিফতরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বের বেশ কিছু দেশে কোভিড ১৯-এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১-এর সংক্রমণ বেড়েছে। এ অবস্থায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যেমন: হাসপাতাল, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের সতর্কতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হলো।

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চতুর্থ ডোজ ভ্যাকসিন নেয়ার পরামর্শ দেয়া হলো। সার্জারি অথবা অন্য কোনো রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কেবল কোভিড-১৯ লক্ষণ বা উপসর্গ থাকলে কেভিড-১৯ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয় অধিদফতর।

The post করোনার নতুন ধরন বাংলাদেশেও শনাক্ত appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/DJGIA8e

Sunday, December 10, 2023

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এক বছরে ২২ কোটি টাকা দান

চলতি বছরে চারবার খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স। এ চারবারে মোট ২১ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ১৮১ টাকা পাওয়া গেছে। টাকার পাশাপাশি হীরা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ।

সবশেষ শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় মসজিদের ৯টি দানবাক্স খুলে ২৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। ২২০ জনের একটি দল ১৫ ঘণ্টা গণনা শেষ রেকর্ড ছয় কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া গেছে বলে জানায়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতিতে মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

এরআগে গত ১৯ আগস্ট মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ২৩ বস্তায় পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৩২৫ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরা পাওয়া যায়।

তার আগে ৬ মে রমজানের কারণে চারমাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ১৯টি বস্তায় পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৮৯ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরা পাওয়া গিয়েছিল।

এছাড়া চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিন মাস একদিন পর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ২০টি বস্তায় তখন পাওয়া যায় চার কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরা।

ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আটটি লোহার দানবাক্স থাকলেও এবার আরও একটি দানবাক্স বাড়ানো হয়েছে। দানের পরিমাণ বাড়ায় এখন পাগলা মসজিদের দানবাক্সের সংখ্যা ৯টি।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্র জানিয়েছে, মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। এছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে।

মসজিদটিকে আন্তর্জাতিকমানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। খুব শিগগির এর কাজ শুরু হবে। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৩০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় এক সাধকের বাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝপথে প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে সব ধর্মের লোকজনের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়। ওই সাধকের দেহাবসানের পর তার উপাসনালয়টিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন এলাকাবাসী।

কিন্তু ওই সাধকের দেহাবসানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে স্থানীয় এমনকি দেশের দূর-দূরান্তের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে সেখানে। মানত কিংবা দান খয়রাত করলে মনের বাসনা পূরণ হয়—এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ ছুটে আসেন এ মসজিদে। তারা নগদ টাকা-পয়সা, সোনা ও রুপার অলংকারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি দান করেন।

বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার এ মসজিদে মানত নিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ঢল নামে। আগতদের মধ্যে মুসলিমদের বেশিরভাগই জুমার নামাজ আদায় করেন মসজিদে। এ ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরেরও পুরোনো বলে জানা যায়।

The post পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এক বছরে ২২ কোটি টাকা দান appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/w6RLPMp

Thursday, November 2, 2023

প্রফেসর মাওলানা হামীদুর রহমান আর নেই

হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও মুহিউস সুন্নাহ মাওলানা শাহ আবরারুল হক ছাহেব রহ.-এর খলীফা, প্রফেসর হযরতখ্যাত মাওলানা প্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তার ছেলে মুহাম্মদ আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আজ দুপুর ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তিনি আরো জানান, ঢাকার ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে তিনি ভর্তি ছিলেন। ডা. রাশিদুল হাসানের অধীনে চিকিৎসা চলছিল। বুকে প্রচণ্ড কফ জমে ছিল। অক্সিজেন উঠানামা করছিলো।

এর আগে তার আরেক ছেলে মুহাম্মদ মাসিহুর রহমান জানান, এর আগে আব্বুর দুইবার করোনা হয়েছে। এছাড়া বার্ধক্যজনিত নানা রোগে তিনি ভোগছিলেন। আব্বুর মাগফেরাতের জন্য আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

The post প্রফেসর মাওলানা হামীদুর রহমান আর নেই appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/JIErOm5

Saturday, October 28, 2023

কেমন আছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘দারুল আরকাম মাদরাসা’

|| তাসনিফ আবীদ ||

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে ২০১৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প’(৬ষ্ঠ পর্যায়)-এর আওতায় দেশের প্রতি উপজেলায় যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, সেখানে ‘দারুল আরকাম’ নামে ১০১০টি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৮ সালে ১০১০জন কওমি ও ১০১০জন আলিয়া মাদরাসার সনদধারী আলেম নিয়োগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

শুরুতেই ছিল শঙ্কা-
কিন্তু একটি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা দেখভাল করার মতো লোকবল, সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ছিলো না। যে কারণে শুরু থেকেই প্রকল্পটি নিয়ে নানা কথা চলছিলো। প্রকল্পটির ভবিষ্যত নিয়েও দেখা দিয়েছিলো নানা শঙ্কা ও উদ্বেগ। সেই শঙ্কা পদে পদে বাস্তববে রূপ নেয়।

শঙ্কা রূপ নেয় অনিশ্চয়তায়-
‘দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসা’ ছিল একটি প্রকল্প। কওমি সনদের স্বীকৃতির পর এটিই প্রথম কওমি আলেমদের সরকারি নিয়োগ। শুরুতে ইফার নিজস্ব সিলেবাসে ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান শুরু হলেও ২০১৯ সালে এসব মাদরাসা ৫ম শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়। কিন্তু একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয় প্রকল্পের মেয়াদ। এক সময় এই প্রকল্পটিও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প থেকে বাদ পড়ে। এরপর থেকে শিক্ষকরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা শঙ্কা দেখা দেয়। তবে ধর্ম-মন্ত্রণালয়ের বিশেষ চাহিদায় প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রাখা হয়।

দারুল আরকামের শিক্ষকরা জানান, ‘২০১৯ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে একটি জটিলতা তৈরি হবে এটা আমরা আগে থেকেই বুঝেছিলাম। সেজন্য বারবার আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবি ছিল যেন সরকারের বিধি অনুসরণ করে এসব মাদরাসাগুলো এমপিওভুক্ত করা হয়। কিন্তু সেটা হয়নি। করোনা মহামারীতে এ কারণে আমাদেরকে খুব কষ্টে জীবন-যাপন করতে হয়।’

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আলোর মুখ-
২০২০ সালের পুরো বছরটিই এভাবে কাটে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার দুই হাজার ২০ জন শিক্ষকের। ওই সময় তাদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারক লিপি, বিভিন্ন মন্ত্রীদের কাছে স্মারক লিপি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারক লিপি ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হয়। এসব কর্মসূচীর পর আবারও আলোর মুখ দেখে প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠিত ‘দারুল আরকাম’।

২ শ’ কোটি টাকার প্রকল্প-
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদান করতে ‘দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন ও পরিচালনা’ নামে নতুন করে ১৯৯ কোটি ৬ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর।

প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়: (ক) জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত মোট ১০১০টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখা; (খ) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি ও দেশে স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি; (গ) আরবি ভাষাশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতার মানোন্নয়ন; (ঘ) সাধারণ শিক্ষিতদের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিতদের বিশেষ করে সরকার স্বীকৃত সনদধারী আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ আলেমদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

প্রকল্পটির প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রাখা হয়: (ক) ৩০৩০ জনের সম্মানি (২০২০ জন শিক্ষকের মাসিক সম্মানি ও ১০১০ জন সহায়ক কর্মীর সম্মানি); (খ) কমিটির সভা ও অন্যান্য ব্যয়; (গ) ৪০৫০ জন প্রশিক্ষণ; (ঘ) ৩৮৩৮০টি শিক্ষা ও শিক্ষণ উপকরণ, ৭৪০৩টি আসবাবপত্র, ৩০৪৩টি অফিস সরঞ্জাম ও ৮টি কম্পিউটার ক্রয়; (ঙ) ১০১১টি ইন্টারনেট/ফ্যাক্স, ৩০৩৪টি বইপত্র/সাময়িকী, ৪০৪০টি প্রচার/বিজ্ঞাপন, ৫৩৫৯২টি মুদ্রণ/বাঁধাই; (চ) ২টি যানবাহন চুক্তিভিত্তিক ব্যবহার।

কিছুটা স্বস্তিতে দারুল আরকামের শিক্ষকরা-
প্রকল্পটি ২০২২ সালে পাশ হলেও এর মেয়াদকাল যেহেতু ২০২১ থেকে ধরা হয় এবং ধর্ম-মন্ত্রণালয়ের বিশেষ চাহিদায় দারুল আরকামের কার্যক্রম শুরু থেকেই চলমান রাখা হয়, তাই চলতি বছরের মাঝামাঝিতে শিক্ষকদের আটকে থাকা বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়। পাশাপাশি আগের মেয়াদের ১১ হাজার ৩০০টাকা বেতনকে বাড়িয়ে এই মেয়াদে করা হয় ১২ হাজার ৫০০টাকা। এসবের পর দারুল আরকামের শিক্ষকদের মনে কিছুটা প্রশান্তি এলেও জটিলতা তাদের পিছু ছাড়ছে না।

দারুল আরকামে যত জটিলতা-
দারুল আরকামের শিক্ষকদের মতামত হচ্ছে, মুসলিম ছাত্ররা যেন প্রাথমিক ইসলামের জ্ঞান অর্জন করতে পারে সে জন্য প্রত্যেক উপজেলায় ২ টি করে এবতেদায়ি দারুল আরকাম মাদ্রাসা স্হাপন করা হয়েছে; যা প্রশংসার যোগ্য। ইসলামি ফাউন্ডেশনের আওতায় এই মাদ্রাসা সারা দেশেই সুনাম অর্জন করছে। কিন্তু মাদ্রাসার জাতীয় করণের উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো আটকে আছে, যা হাজার হাজার শিক্ষকদেরকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে।

তাদের দাবি, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোন প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত রাজস্বখাতে যায়নি। তাই দারুল আরকাম এবতেদায়ি মাদ্রাসাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা বিভাগের অধীনে নিয়ে জাতীয়করণ করা হোক। পর্যাপ্ত ভবন নির্মাণ করা হোক। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে বিনোদনের ব্যবস্হা করা হোক।’ তাহলে প্রাইমারী স্কুলের মতো দারুল আরকামের শিক্ষকরাও ইসলামের শিক্ষা শিশুদের অন্তরে ঢেলে দিয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করতে সক্ষম হবে।

দারুল আরকামে শিক্ষকতা করেন ময়মনসিংহের ভালুকার এমন এক শিক্ষক জানান, দারুল আরকামে ছাত্র-ছাত্রী ধরে রাখতে হলে উপবৃত্তি প্রয়োজন। সরকার প্রাইমারি সেক্টরে ছাত্র-ছাত্রী ধরে রাখার জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্হা করেছে। এমনকি, ইতিমধ্যে দেখেছি উপবৃত্তি দ্বিগুণ করেছে। দরিদ্র এলাকায় অভিভাবকরা এসব বিষয় মাথায় রাখে। তাই তারা তাদের সন্তানকে অনেক সময় উপবৃত্তির জন্য প্রাইমারিতে পাঠিয়ে দেয়। আমাদের দাবী, দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসায় উবৃত্তি চালু করা হোক। না হয় দরিদ্র এলাকায় শিক্ষার্থী ধরে রাখতে পারবে না দারুল আরকাম।

এদিকে দারুল আরকামের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় প্রকল্পটির আরো কিছু জটিলতার কথা। দারুল আকরামের সিলেবাস নিয়ে দ্রুতই কাজ করার দাবি তাদের। বর্তমানে দারুল আরকাম মাদ্রাসায় কিরাআতুল কুরআন, আল-হাদীসুন্নাবী, আল-লুগাতুল আরাবিয়া, আদ্দীনিয়াত, সমাজ বিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয়। তারা জানান, শিশুদের জন্য চলমান সিলেবাসটি খুবই কঠিন হয়ে যায়। তাছাড়া বইয়ের পরিমাণও অনেক। শিশুদের জন্য সবগুলো বই আত্মস্থ করা জটিল হয়ে যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত শ্রেণি শিক্ষকের অভাবও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হওয়া এই মাদরাসা ব্যবস্থাকে আরো কীভাবে সৃজনশীল করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

এদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক শিক্ষক জানান, দারুল আরকামে চাকরি করছি ঠিক কিন্তু কোন রকম শান্তিতে নাই। পোস্টিং নিজ উপজেলা থেকে প্রায় ১১০ কি.মি. দূরে। এছাড়া থাকার জায়গা নেই। পেশাব-পায়খানার ভাল জায়গাও নেই। কোন রকম একটি ছিল, তা বন্যায় একবারে ভেঙ্গে গেছে। এমন আরো অনেক সমস্যাই পোহাতে হচ্ছে।

আবারো অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে দারুল আরকাম-
দারুল আরকাম একটি অলটারনেটিভ শিক্ষা ব্যবস্থা। এটা শিশু ও গণশিক্ষার মতো নয়। আর কোনো প্রকল্প বা প্রজেক্ট সারাজীবন চলে না। দারুল আরকাম মাদরাসার চলমান প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এবারের মেয়াদ শেষ হলে ২০২০ সালের মতো আবারো বড় কোনো সঙ্কায় হয়তো পড়তে পারে দারুল আরকামের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ঝরে পড়তে পারে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী। তাই যত দ্রুত সম্ভব একে রাজস্বকরণের দাবি তুলছে সংশ্লিষ্টরা।

The post কেমন আছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘দারুল আরকাম মাদরাসা’ appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/loBuQ8S

Tuesday, October 3, 2023

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন যে তিন বিজ্ঞানী

ফাতেহ ডেস্ক:

পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর নোবেল পুরস্কার পেলেন পিয়া অগোস্টিনি, ফেরেঙ্ক ক্রুসজ এবং অ্যান ল’হুইলার। ইলেকট্রন গতিবিদ্যার গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সুইডেনের র‌য়্যাল সুইডিশ একাডেমি বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

ইলেকট্রন গতিবিদ্যায় পরীক্ষামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে আলোর অ্যাটোসেকেন্ড পালস তৈরি করার বিষয়টি ওই তিনজন বিজ্ঞানীর গবেষণায় দেখানো হয়েছে। তার তিনজন এমন আলোর ফ্ল্যাশ (ঝলকানি) তৈরি করেছেন যেগুলো ‘অতি দ্রুত চলাচলকারী’ ইলেকট্রনের স্ন্যাপশট নিতে পারে।

প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার শুরু হয় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। প্রথম দিন ঘোষণা করা হয় চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল। ছয়টি বিভাগে ছয় দিন নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হয় নরওয়ে থেকে। সাহিত্য ও অর্থনীতির মতো অন্য পুরস্কারগুলো সুইডেন থেকে ঘোষণা করা হয়। প্রতিটি পুরস্কারের মূল্য ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ৯ লাখ ডলার)।

১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া শুরু হয়। এরপর থেকে ১১৬ বার এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২২২ জন পদার্থবিজ্ঞানী সম্মানজনক এই পুরস্কার জিতেছেন।

মূলত মোট ছয়টি বিভাগে ছয় দিনে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে সোমবার (২ অক্টোবর) এ বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়। প্রথম দিন ঘোষণা করা হয়েছে চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন করোনাভাইরাসের টিকার দুই গবেষক। যৌথভাবে নোবেলজয়ী এই দুই গবেষক হলেন- হাঙ্গেরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী কাটালিন কারিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ড্রিউ ওয়েইজম্যান।

এদিকে বুধবার (৪ অক্টোবর) রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর ৫ অক্টোবর সাহিত্যে আর ৬ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। দুই দিন বিরতি দিয়ে ৯ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পর্দা নামবে।

The post পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন যে তিন বিজ্ঞানী appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/7BJj0di

Saturday, September 23, 2023

মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন

ফাতেহ ডেস্ক:

করোনার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারে ৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড। বাংলাদেশি টাকায় এ অর্থের পরিমাণ ৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

ওয়াশিংটন সময় শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাংকে প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশকে এই ঋণ ক্রেডিটটি বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) দেওয়া হয়েছে। যা ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরের মেয়াদে পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক জানান, বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লিঙ্গ সমতা অর্জনকারী প্রথম কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন দীর্ঘায়িত স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার ওপর গভীরভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং অনেক দরিদ্র মেয়েকে স্কুল ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে। বিশ্বব্যাংক শেখার ফলাফল এবং শিক্ষার গুণমান উন্নত করে শেখার ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। যাতে শিক্ষার্থীরা সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন এবং সমাজে সংগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে স্নাতক হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন অপারেশন সরকারের সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রোগ্রামকে সমর্থন করবে। শিক্ষাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে, প্রোগ্রামটি ৬, ৪তম গ্রেডের জন্য গণিত, ইংরেজি এবং বাংলার মতো মূল বিষয়গুলোতে ফোকাস করবে, কারণ এগুলো ভবিষ্যতের শিক্ষার ভিত্তি। এটির লক্ষ্য চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতে দক্ষতা বর্তমান ২৮ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশে এবং বাংলায় ৬৬ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা। ঝরে পড়ার হার কমাতে, প্রোগ্রামটি ৪ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি পেতে সহায়তা করবে। এছাড়া, আরও প্রায় ৭ হাজার ২০০টি স্কুলে পড়ার দক্ষতা উন্নত করার জন্য প্রোগ্রাম থাকবে এবং ১৫ হাজার শিক্ষক তাদের শেখানোর দক্ষতা উন্নত করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রোগ্রামটি মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংকেও সহায়তা করবে এবং কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লক্ষ্যযুক্ত বিদ্যালয়ে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন শিক্ষার ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার করতে প্রোগ্রামটি নতুন অনুমোদিত পাঠ্যক্রমের ডিজিটাইজেশন এবং পর্যায়ক্রমে রোলআউটের পাশাপাশি শেখার পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত প্রতিকারমূলক ক্লাসগুলোকে সহায়তা করবে। এটি সরকারের মিশ্রিত শিক্ষার মাস্টারপ্ল্যানকেও সমর্থন করবে। এছাড়া, ক্লাসে এবং অনলাইন শিক্ষার সংমিশ্রণ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতকৃত সংস্থানগুলো অফার করবে যাতে তারা তাদের নিজস্ব গতিতে শিখতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের দলনেতা টি.এম.আসাদুজ্জামান জানান, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে শিশুদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রাখার জন্য, প্রোগ্রামটি উপবৃত্তি প্রদানের বাইরেও অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যারা বাদ পড়েছেন তাদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করতেও সহায়তা করবে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়, বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে স্কুলগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হলেও মিশ্রিত শিক্ষা ট্র্যাকে শিখতে সাহায্য করবে। এই প্রোগ্রামটি জলবায়ু-স্মার্ট মানসিকতা এবং আচরণকে উত্সাহিত করার জন্য পাঠ্যক্রমের মূলধারার জলবায়ু শিক্ষাকেও যুক্ত করবে।

The post মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/P9kGn4T

Monday, September 18, 2023

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল

ফাতেহ ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে আগের দু’টি শর্তেই মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে। মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়ে এ সংক্রান্ত ফাইল আইন মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খালেদা জিয়া আগের মতোই ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। এই সময় তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। এই দুটি শর্তেই দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

দুটি মামলায় সাজা হওয়ায় কারাবন্দি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত থাকায় তিনি কারামুক্তি রয়েছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায়ের পর তাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার সাজা আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন একই আদালত।

২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারি শুরু হলে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়।

খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির সবশেষ মেয়াদ শেষ হবার কথা ছিলো আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। এর আগেই তার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে অষ্টমবারের মতো খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়লো।

The post খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/qc29Y7l

ওমরার স্বপ্ন চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে

আব্দুল্লাহ আফফান।।

বাংলাদেশ থেকে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হজ ও ওমরা পালন করেন। তাদের অধিকাংশই পুরো জীবন টাকা জমান মক্কা, মদিনায় একবার যাওয়ার জন্য। এই শহর দু’টির সাথে জড়িয়ে আছে ধর্মীয় ভাবাবেগ। নতুন হিজরি সাল শুরুর পর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ওমরা পালন করেছেন ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি মানুষ। নতুন হিজরি বর্ষ শুরুর প্রথম ৬ মাসের ওমরাকারীদের তথ্য জানাতে গিয়ে এমনটাই জানিয়েছে সৌদি হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে ওমরা করেছিল ৫২ হাজার ৮৪৮ জন। সে হিসেবে গত তিন বছরে ওমরাকারী বেড়েছে প্রায় কয়েকগুন।

করোনার আগে এজেন্সিভেদে ওমরার সর্বনিম্ন প্যাকেজ ছিল ৮০ হাজার টাকা। করোনা বিধিনিষেধের কারণে ওমরা পালনে ব্যয় বেড়েছিল কয়েকগুন। চলতি বছর হজ ও ওমরার খরচ কমিয়েছে সৌদি সরকার। সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ৪১৩ সৌদি রিয়াল কমিয়েছে। গত বছর করোনার কারণে আবাসন ও পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা বাধ্যতামূলক ছিল। যা এ বছর শিথিল হয়েছে। তবে সে তুলনায় বাংলাদেশে কমেনি ওমরা খরচ। গত বছর এজেন্সিভেদে ওমরা খরচ ছিল এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা। চলতি বছর ওমরা করতে খরচ হবে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ১০ হাজার পর্যন্ত।

দিন দিন মধ্যবিত্তদের আওয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে ওমরার খরচ। এবিষয়ে জানতে চাইলে ফাতেহ টোয়েন্টিফোরকে হলি টুরিজম বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, হজ ও ওমরা এটি শারীরিক ও আর্থিক এবাদত। শারীরিক সুস্থতা ও আর্থিক সক্ষমদের জন্য হজ ও ওমরা। যাদের আর্থিক সক্ষমতা নেই তারা ওমরা করবে না। এটা তো ফরজ না। আর হজ ফরজ হয় আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে। তাই খরচ বাড়াকে খুব বড় সমস্যা মনে হয় না।

এবিষয়ে স্কাই হলিডেইজের প্রশাসন বিভাগের হেড সাইয়্যেদ মিনহাজ নবী জানিয়েছেন, করোনার পর ভিসার খরচ কিছুটা কমিয়েছে সৌদি আরব। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিমান ভাড়া বেশি। এছাড়া ডলারের রেটও বেশি। এসব কারণে খুব বেশি কমেনি ওমরার খরচ।

ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার দেশগুলোর হজের খরচ একই। তবে আমাদের বিমান ভাড়া তুলনামূলক বেশি। এছাড়া হজের অন্যান্য খরচে কোন পার্থক্য নেই বলে দাবি করেছেন হলি টুরিজম বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শাহাদাত হোসাইন।

শাহাদাত হোসাইন বলেন, সৌদি আরবে যাওয়া ও আসার বিমান ভাড়ায় পার্থক্য রয়েছে। যাওয়ার ভাড়া তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে। অথচ রুট এক, বিমান এক, তেল খরচও এক; তবুও খরচে পার্থক্য হবে কেন? অন্য সময়ের চেয়ে হজের সময় বিমান ভাড়া বেশি রাখা হয়। এমনটা কেন করা হয় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ভালো বলতে পারবে।

জানা যায়, গত বছর ভারতে থেকে হজ করতে খরচ হয়েছে (বাংলাদেশি টাকায়) ৪ লাখ টাকার কম। পাকিস্তানের খরচ হয়েছে (বাংলাদেশি টাকায়) ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৮ টাকা। বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি ভাবে খরচ হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা।

এ বছর বিমান ভাড়া বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাদাত হোসাইন বলেন, প্রতি বছরই আমরা বিমান ভাড়া বিষয়ে কথা বলি। এবছর বিমান ভাড়া কমানো বিষয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে হজ্জ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। চিঠির জবাব এলে এ বছর বিমানের ভাড়া কমবে কিনা সেটা বলা যাবে।

ওমরার খরচ বাড়া-কমার কারণ হিসেবে স্কাই হলিডেইজের সাইয়্যেদ মিনহাজ নবী বলেছেন, এয়ারলাইন্সগুলোর টিকেট গ্রুপ ভিত্তিক আগের থেকে নিতে পারলে খরচ কিছুটা সাশ্রয়ী হয়। সৌদি আরবে লোকাল, ইন্টারন্যশনাল ছুটির কারণে খরচ কম-বেশি হয়। বাইতুল্লাহ থেকে হোটেলের দূরত্ব, রুম ও ট্রান্সপোর্ট শেয়ার, বাসের পরিবর্তে আলাদা গাড়ি ব্যবহারে খরচ বাড়ে। এছাড়া জ্বালানি মূল্য ও ডলার মূল্য বৃদ্ধি তো আছেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওমরা প্রত্যাশী জানান, কাবা ছোঁয়া, রাসূল সা. এর করব জিয়ারত করা সকল মুসলমানের স্বপ্ন। আগের তুলনায় এখন ওমরা করা সহজ। কিন্তু খরচের কারণে ওমরা করতে পারছে না অনেকে। ওমরার খরচ কমলে সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা হয়। তারা ওমরা করার সুযোগ পায়। করোনার পর পর ওমরার খরচ অনেক বেশি ছিল। এখন কিছুটা কমেছে। সরকার অনেক ক্ষেত্রে ভুর্তুকি দেয়। হজ ওমরাতেও যদি কিছুটা ভূর্তুকি দিতো, তাহলে সাধারণ মানুষের ওমরা করতে সহজ হতো।

হজ ও ওমরা সহজ করতে স্বচেষ্ট সৌদি সরকার

সৌদি সরকার হজ ও ওহরা সহজ করার জন্য বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম নুসুক অ্যাপ। এর মাধ্যমে হজ ও ওমরার আবেদন করা যায়। বাংলাদেশ থেকে হজ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও গতিশীল করতে ‘নুসুক’ অ্যাপ উদ্বোধন করেছে সৌদি আরব। এর ফলে বাংলাদেশিদের জন্য সৌদি আরব ভ্রমণ আরও সহজ হবে। ওমরাহ পালনে ব্যক্তিগতভাবেই আবেদন করতে পারবেন আগ্রহীরা। অ্যাপটি ইউরোপ-আমেরিকায় আগেই চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে কমে আসবে এজেন্সি-নির্ভরতা।

The post ওমরার স্বপ্ন চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/0UgLpEf

Saturday, September 16, 2023

হাফেজ রেজাউল করিম হত্যার বিচার কি হবে না?

মাদরাসার ছাত্র রেজাউল করিম হত্যার পর তো অনেক দিন পার হয়ে গেল। কোনো বিচার শুরু হয়েছে বলে শোনা যায়নি। কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে পাঠকবৃন্দ জেনে গেছেন-‘রাজধানীর গুলিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’শেষে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত রেজাউল করিম (২১) যাত্রাবাড়ীর একটি মাদরাসায় পড়তেন। কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না তিনি। রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা। এর আগে ঘটনার দিন রাতে সিআইডির একটি দল ময়নাতদন্ত করে। রোববার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রেজাউলের ফুপু ফারিয়া যুগান্তরকে জানান, তার ভাতিজা যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদরাসায় জালালাইন জামাতে অধ্যয়নরত ছিল। কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যকার বিরোধ একটি নিরপরাধ ছেলের জীবন কেড়ে নিয়েছে। রেজাউল অসুস্থ ছিল। করোনার পর তার ডেঙ্গু হয়। সুস্থ হওয়ার পর জন্ডিস হয়। তাই নিয়মিত ডাক্তার দেখাত, ওষুধ খেত।

নিহতের বেয়াই রাসেল মিয়া জানান, গত বুধবার গ্রাম থেকে এসে রাজধানীর খিলগাঁও গোড়ানে তার বাসায় ওঠে রেজাউল। সেখানে অসুস্থতা অনুভব করে। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে বাসায় অবস্থান করে প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রেজাউল বাসা থেকে বের হয়। যাওয়ার সময় বলে যায়, মাদরাসায় গিয়ে ছুটি নিয়ে ফিরবে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, গুলিস্তানে এক যুবক মারা গেছে। এরপর ঢামেকে গিয়ে তিনি রেজাউলের লাশ শনাক্ত করেন।’-যুগান্তর, ৩১ জুলাই ২০২৩

একটি দেশের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে কওমী মাদরাসার একজন ছাত্রকে হত্যা করা হল। এ নিয়ে কারও তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া শোনা গেল না। চারদিক থেকে তার মতো বা তার সহপাঠীদের গালমন্দ বা বকাঝকা শুনে দুচারটা বিবৃতি পর্যন্ত গিয়েই থেমে গেছে। অথচ এটা তো স্বতঃস্বিদ্ধ বিষয় যে, ঘটনাটা ঘটিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। তাদের পারস্পরিক সংঘর্ষের মাঝে এই ছেলেকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এখান থেকে বহু প্রশ্ন, বহু কিছুই উত্থাপিত হয়। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের শিরোনাম ছিল, ‘আ.লীগের সংঘর্ষ চলাকালে রেজাউলের পায়ে কোপ দিল কারা?’

ক্ষমতাসীনদের অতীত তো এদেশের দ্বীনদার সমাজ ভুলবে না। তারা অতীতে ধর্মীয় লোকদের সাথে, মাদরাসার মানুষদের সাথে ১৯৯৬ থেকে ২০০১, ২০১৩, ২০১৪, ২০২১ পিরিয়ডে কী আচরণ করে এসেছে- তা কারও অজানা নয়। মাঝে মাঝে মনে হয়, তারা এসব থেকে কিছু না কিছু শিক্ষা নেয়। কিছু পরিবর্তন দেখায়। ভাব দেখায়, আমরা ধর্মীয় লোকজন, মাদরাসা-মসজিদের বিরোধী নই। কিন্তু মাঝে মাঝেই এমন ঘটনা ঘটে, যা থেকে প্রতীয়মান হয়- তারা যেই সেই রয়ে গিয়েছে। এখানে তো তাদের বিরুদ্ধে কেউ আন্দোলন করতে যায়নি। কেউ কিছু বলতেও যায়নি। এ ছেলে কোনো রাজনীতি করে- এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ, পরিচয় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

গুলিস্তান এলাকা কি ক্ষমতাসীন দলকে ভাড়া দিয়ে দেওয়া হয়েছে? ওখানকার ফুটপাথ, রাস্তা দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে ওই দলের লোকজন মেরে ফেলবে? অনেকেই মনে করেন, এ ঘটনা ইচ্ছাকৃত ঘটানো হয়েছে। হয়তো তাদের দলের ধর্মবিদ্বেষী লোকজন এ ছেলেকে দাড়ি-টুপিওয়ালা দেখে প্রতিপক্ষের ধার্মিক সদস্য মনে করে ইচ্ছে করেই মেরে ফেলেছে। যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আমরা কি প্রতিকার করতে পেরেছি? খুব স্বাভাবিকভাবেই মাদরাসার ছাত্ররা দলীয় রাজনীতি করে না, ছাত্ররা তাদের শিক্ষকদের দিকনির্দেশনার বাইরে গিয়ে আন্দোলনও করে না। এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে মাদরাসার দায়িত্বশীল বোর্ডগুলোর একটি-দুটি বিবৃতি দিয়েই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? এ ঘটনায় বোঝাপড়া করে দোষীদের গ্রেফতার করিয়ে বিচারের আওতায় আনার দায়িত্ব কি নেই কারও? কিন্তু এসব দায় গ্রহণ ও দায়িত্ব পালনের কোনো কিছুই দেখা যাচ্ছে না। একজন মাদরাসার শিক্ষার্থীকে যারা এভাবে শেষ করে দিয়েছে তারা কি এমনি এমনিই পার পেয়ে যাবে? আল্লাহর বিচার তো আছেই। এধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা যদি পার পেতে থাকে তাহলে তারা অন্য সময়ও এমন খুন-খারাবি করতে দ্বিধা করবে না।

আলকাউসারের অনেক পাঠকই এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আমরা মনে করি, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে সুষ্ঠু বিচারের মুখোমুখি করা দরকার। সরকার ব্যবস্থা না নিলে কওমী মাদরাসার বোর্ডগুলোর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন করে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সোচ্চার হতে পারেন।

বিজ্ঞ কিছু মহল থেকে আরেকটি বিষয়েও দীর্ঘদিন থেকে চাপা অসন্তোষ লক্ষ করা যাচ্ছে। তা হচ্ছে, কওমী মাদরাসার একটি বড় বোর্ডের ফেইসবুক-প্রীতি। তারা নাকি কোনো নোটিশ প্রদান করলে তা ফেইসবুকে করেন। বিবৃতি দেন ফেইসবুকে মহাপরিচালকের স্বাক্ষরে। এটি কেমন কথা! তাহলে কি তারা ধরে নিচ্ছেন যে, তাদের বোর্ড-সংশ্লিষ্ট সব ছাত্র-শিক্ষক বা মাদরাসাওয়ালারা অবশ্যই ফেইসবুক ব্যবহার করেন। ফেইসবুকে বিবৃতি দিতে হবে কেন? সেটা কি মাদরাসা-সংশ্লিষ্টদের ফেইসবুকের প্রতি আকর্ষণের একটি নীরব দাওয়াত হয়ে যাচ্ছে না? যদি অনলাইনেই দিতে হয়, তাহলে সেটা তো নিজস্ব ওয়েবসাইটেও প্রচার করা যেতে পারে। মাদরাসার ছাত্র রেজাউল করিম রাহ. হত্যার পর চারদিক থেকে শোকাহত লোকজনের প্রতিবাদী আওয়াজ ওঠার পর নাকি ফেইসবুকে একটি বিবৃতি এসেছে। কেউ কেউ বলছেন, তাতে নাকি অনেক ব্যক্তিত্বের নামের মাঝে মরহুম রেজাউল করিমের নাম বের করে নেয়া কষ্টকর ছিল। আবার ভিন্ন বিবৃতিতে নিহত ছাত্রটির পরিবারকে টাকা প্রদানের কথাও প্রচার করা হয়েছে। তাতেও দুঃখ লেগেছে অনেকের মনে। এ প্রচারণার কী অর্থ? এমন তো নয় যে আপনারা এক কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছেন। ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে দিয়েছেন। এক লাখ টাকা দিয়ে আপনি প্রচার করছেন পুরো দুনিয়া। কোনো অনুদান দিলে তা তো ছেলেটির পরিবারকে নীরবেই দেওয়া যেত। এ ধরনের প্রচারণা কি শোকাহত পরিবারটির জন্য বিব্রতকর ও আরও কষ্টকর নয়?

এখানে আমরা তালেবে ইলমদের প্রতি একটি আহ্বান রাখতে চাই। সেটা হল, এ মুহূর্তে রাজনীতির মাঠ চারদিকে উত্তপ্ত। এসময়ে তালেবে ইলমদের চলা-ফেরায় খুব সতর্ক থাকা দরকার। বিনা প্রয়োজনে মাদরাসা থেকে বের না হওয়া। যে এলাকায় গণ্ডগোল কিংবা দলীয় কর্মসূচি চলছে, সেসব এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা। এসব বিষয়ে সতর্কতা কাম্য। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও তালেবে ইলম সবারই সতর্ক থাকা দরকার। বুঝতে হবে, এখনকার রাজনীতি মানুষকে মানুষ মনে করে না। নিজেদের ক্ষমতাটাকেই বড় বিষয় হিসেবে ধরে নিয়েছে। তাই নিজেদের সতর্কতা অবলম্বন অতীব জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট সকল স্তরের উলামা-তলাবা-অভিভাবকদেরকে হেফাজত করুন। অন্যদের অনিষ্ট থেকে, ষড়যন্ত্র থেকে এবং অন্যদের আধিপত্যের মুখে পড়া থেকে রক্ষা করুন।

(আল-কাউসার থেকে নেয়া)

The post হাফেজ রেজাউল করিম হত্যার বিচার কি হবে না? appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/crtmC7N

Thursday, August 17, 2023

প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

ফাতেহ ডেস্ক:

গত ৫ বছরে কোনো প্রশ্নফাঁস হয়নি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, যা হয়েছে তাহলো সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো। প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় দেশের ৮ শিক্ষাবোর্ডের অধীনে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালের পর প্রশ্নফাঁসের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরীক্ষা এলেই একটি শ্রেণি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করে। এদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর আছে।

এ ছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত পরীক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনাও দেন শিক্ষামন্ত্রী।

ডা. দীপু মনি বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত দুই-তিন বছর আমাদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার একটু এলোমেলো হয়েছে। আগামী বছর থেকে এটা ঠিক হয়ে যাবে আশা করি। আগামী বছর আমরা চেষ্টা করব এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে এবং এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে নেয়ার। সে অনুযায়ী ক্লাসে পাঠদান করানো হবে।

এর আগে নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে প্রায় সব পরীক্ষার্থীই কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। আর যারা একটু দেরিতে আসেন, তাদের নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময় ও বিলম্বের কারণ রেজিস্টারে লিখে নিয়ে প্রবেশ করতে হয়েছে।

প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা হচ্ছে। এবার পুনর্বিন্যাস করা পাঠ্যসূচি অনুযায়ী, একটি বাদে সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে পরীক্ষা হবে। শুধু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা ১০০ নম্বরের পরিবর্তে ৭৫ নম্বরে নেয়া হবে।

The post প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/Et7hrX9

Sunday, August 13, 2023

স্যালাইনের অধিক দাম নিলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

ফাতেহ ডেস্ক:

ডেঙ্গু চিকিৎসায় রোগীদের বাড়তি খরচের চাপে না ফেলতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ স্যালাইনের অতিরিক্ত দাম নিলে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দুর্ভোগে কেউ সুযোগ নিবেন না। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ স্যালাইনের অতিরিক্ত দাম নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্যালাইনের সংকট মেকাবিলায় বিদেশ থেকে স্যালাইন আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জেলা পর্যায়ে রোগী বাড়লেও ঢাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্থিতাবস্থায় আছে। সবার সহযোগিতা পেলে করোনার মতো ডেঙ্গুকেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আজ দুপুরে মানিকগঞ্জে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এ সময় দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ ৫৪০টি প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়ালি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এই কর্মসূচিতে সারা দেশে স্বাস্থ্য বিভাগের ২০ হাজার প্রতিষ্ঠানে প্রায় আড়াই লাখ গাছ লাগানো হবে। এই কর্মসূচিকে উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির জনক ও তার পরিবারের প্রতি।

The post স্যালাইনের অধিক দাম নিলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/aiIuPeH

Tuesday, August 8, 2023

কাবা চত্বরে না ঘুমাতে ওমরাহযাত্রীদের প্রতি সৌদির অনুরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ওমরাহ করতে আসা যাত্রীদেরকে কাবা চত্বরে না ঘুমানোর অনুরোধ জানিয়েছে সৌদির ওমরাহ ও হজ মন্ত্রণালয়।

রোববার মন্ত্রণালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) এই অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবা শরিফের চত্বরে অলস সময় কাটানো বা ঘুমানো এই স্থানটির পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী। অতএব হে আল্লাহর অতিথিগন (ওমরাহযাত্রীবৃন্দ), আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা কাবা চত্বরের করিডোর, প্রার্থনাকক্ষ, হাঁটার পথ এবং শারীরিকভাবে চলাচলে অক্ষমদের জন্য তৈরি করা গাড়িগুলোর ওপর অলস সময় কাটানো এবং নিদ্রা থেকে বিরত থাকবেন।

এর আগে কাবা শরিফে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকা এবং ঠেলাঠেলি করতে মুসল্লিদের নিষেধ করেছিল হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

চলতি ২০২৩ সালের হজ মৌসুমে হজ আদায় করেছেন ১ কোটি ৮০ লাখ দেশি-বিদেশি হজযাত্রী। করোনা মহামারির ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর এই প্রথম এত সংখ্যক মানুষ হজ আদায় করেছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

হজ শেষে জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ওমরাহ মৌসুম, থাকবে আরও অন্তত ১০ মাস। এই মৌসুমে অন্তত ১ কোটি দেশি-বিদেশি মুসল্লি ওমরাহ করবেন বলে আশা করছে হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

The post কাবা চত্বরে না ঘুমাতে ওমরাহযাত্রীদের প্রতি সৌদির অনুরোধ appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/oX2OMWj

Tuesday, July 25, 2023

সৌদি আরবে এবার বাধ্যতামূলক হলো ওমরাহ বিমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিদেশি ওমরাহযাত্রীদের জন্য ‘ওমরাহ বিমা’ বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি আরব। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।

সোমবার (২৪ জুলাই) সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে ওমরাহ বিমা বাবদ অতিরিক্ত অর্থ জমা দিতে হবে। এই অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল।

ওমরাহ ফি’র সঙ্গেই এই অর্থ জমা দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা, অপ্রত্যাশিত করোনা সংক্রমণ, দুর্ঘটনা, মৃত্যু, ফ্লাইট বাতিল হলে নতুন ফ্লাইটের জন্য টিকেট ক্রয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই বিমার সুবিধা পাবেন ওমরাহযাত্রীরা।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দাফতরিক কমিউনিকেশন চ্যানেলগুলোর সহায়তা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি সরকার।

এর আগে, সৌদি আরবের নাগরিকরা বিদেশে থাকা তাদের মুসলিম বন্ধুদের ‘ব্যক্তিগত ভিজিট ভিসায়’ পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন বলে জানায় হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

গেল বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এক টুইটবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করে। এতে বলা হয়, ব্যক্তিগত ভিজিট ভিসা অনলাইনে আবেদন করেও পাওয়া যাবে, যা সিঙ্গেল বা মাল্টিপল এন্ট্রি হতে পারে।

এই ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে বিদেশিরা ওমরাহ পালনের পাশাপাশি মসজিদে নববী পরিদর্শনসহ দেশটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও ভ্রমণ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। ব্যক্তিগত ভিজিট ভিসার জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভিসা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

The post সৌদি আরবে এবার বাধ্যতামূলক হলো ওমরাহ বিমা appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/noRY9aT

Wednesday, July 19, 2023

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ

ফাতেহ ডেস্ক:

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২৮ জুলাই প্রকাশ করা হবে। বুধবার (১৯ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি অনুযায়ী আগামী ২৮ জুলাই ফল প্রকাশ করা হবে। আমরা ২৫ থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২৮ জুলাই ফল প্রকাশের জন্য সময় দিয়ে সম্মতি দিয়েছেন। তাই সেদিনই ফল প্রকাশ করা হবে।

তপন কুমার সরকার বলেন, ৩০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিন পূর্ণ হবে। সাধারণত দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের রেওয়াজ আছে। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবে না। রীতি অনুযায়ী ফলের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফল প্রকাশের দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সময় অনুমতি চাওয়া হয়। ‌তাই প্রধানমন্ত্রী যে সময় দিয়েছেন সেই তারিখে ফল প্রকাশ করতে হবে।

গত ৩০ এপ্রিল শুরু হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শেষ হয় ২৮ মে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের বিধান রয়েছে।

উল্লেখ্য, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় মোট ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। সারাদেশে ২৯ হাজার ৫৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী মোট ৩ হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়।

২০১০ সাল থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসএসসি এবং এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে আসছিল। তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারির প্রকোপ শুরু হলে সেই ধারাবাহিকতা আর ঠিক রাখা যায়নি। ২০২১ ও ২০২২ সালে পরীক্ষা নেওয়া হয় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। ২০২২ সালে বন্যার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা আরও পিছিয়ে নভেম্বর মাসে মাসে নেওয়া হয়। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা মে মাসে নেওয়া হয়। আর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১৭ আগস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

The post এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/cRtbOeS

Sunday, July 16, 2023

করোনা আর যুদ্ধে দরিদ্র ১৬ কোটি মানুষ: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

করোনা মহামারি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ বিশ্বের ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ এ তথ্য জানিয়েছে।

‘ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের’ (ইউএনডিপি) ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবিলম্বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঘাড় থেকে বিপুল পরিমাণের ঋণের বোঝা না কমালে আরও বেশি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করতে বাধ্য হবেন।

এই ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ হয় মহামারিতে কোনো না কোনো ভাবে চাকরি বা কাজ হারিয়েছেন। অথবা রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে তাদের ওপর।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্তত সাড়ে সাত কোটি মানুষ মাত্র ২.১৫ ডলারে দিন কাটান। তাদের ‘অতি দরিদ্রের’ তালিকায় রেখেছে জাতিসংঘ।

এছাড়া, আরও অন্তত ৯ কোটি মানুষ এখন দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছেন। যারা সংসার চালাতে দিনে গড়ে ৩.৬৫ ডলার খরচ করতে পারেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বের অন্তত ৩০০.৩ কোটি মানুষ এমন সব দেশে বসবাস করছেন, যেখানকার সরকার নাগরিকদের স্বাস্থ্য বা শিক্ষা খাতের তুলনায় ঋণ পরিশোধে বেশি অর্থ খরচ করে থাকে।

অবিলম্বে তাই ওইসব দেশের ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

The post করোনা আর যুদ্ধে দরিদ্র ১৬ কোটি মানুষ: জাতিসংঘ appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/D4fXRjs