Sunday, January 1, 2023

দেশে করোনার নতুন উপধরন বিএফ.৭ শনাক্ত

ফাতেহ ডেস্ক:

দেশে করোনাভাইরাসের ওমিক্রনের নতুন উপধরন বিএফ.৭ শনাক্ত হয়েছে। চীন থেকে আসা কোয়ারেন্টাইনে থাকা একজন চীনা নাগরিকের নমুনায় করোনার এই নতুন উপধরন শনাক্ত হয়েছে।

রোববার (১ জানুয়ারি) দুপুরে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তার (চীনা নাগরিক) নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে এই নতুন ধরন চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে আক্রান্ত নাগরিক সুস্থ আছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে থাকা চার চীনা নাগরিকের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে একজনের শরীরে বিএফ.৭ শনাক্ত হয়েছে। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজনের ওমিক্রন বিএ ৫.২ উপধরন এবং আরেকজনের বিএ ৫.২.১ উপধরন শনাক্ত হয়েছে।

The post দেশে করোনার নতুন উপধরন বিএফ.৭ শনাক্ত appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/JAgnzcQ

Sunday, December 25, 2022

তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার জোর প্রস্তুতি চলছে

ফাতেহ ডেস্ক:

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে টানা দুই বছর অনুষ্ঠিত হয়নি বিশ্ব ইজতেমা। নতুন বছরের শুরুতেই বিশ্ব ইজতেমার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানুয়ারিতে দুই পর্বে হবে এই ইজতেমা। ইতোমধ্যে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে ইজতেমার প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইজতেমা ময়দানের নিচু জমি ভরাট, সামিয়ানা টানানো, রাস্তাঘাট মেরামত ও পয়ঃনিষ্কাশনের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।

তাবলিগের দায়িত্বশীলরা জানান, গাজীপুর, ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিচ্ছেন ইজতেমার প্রস্তুতির কাজে। পাশাপাশি তাবলিগ জামাতের সাথীরাও যোগ দিয়েছেন। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্ররাও ইজতেমার কাজ করছেন।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হবে ১৩ জানুয়ারি। চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। মাঝে চার দিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ২০ জানুয়ারি। চলবে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। দুই পর্বেই পৃথক পৃথক আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহ আলম জানান, বিশ্ব ইজতেমা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-জিএমপি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। ময়দানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইজতেমার শেষ দিন পর্যন্ত পুলিশ সক্রিয় থাকবে।

ঢাকা থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে টঙ্গীর বিশাল ময়দানে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা ১৯৬৭ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

The post তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার জোর প্রস্তুতি চলছে appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/1xtIZQf

Saturday, December 24, 2022

করোনার নতুন ধরন নিয়ে সরকার সতর্ক

ফাতেহ ডেস্ক:

চীনে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন বিএফ-৭ দেখা দিয়েছে। এ ধরন নিয়ে সতর্ক রয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন এই সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আজ রবিবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক জরুরি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, টিকার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তার সুযোগ নেই। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পর্রামশেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। ফলে দ্বিধার কোনো সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, চীনে নতুন ধরন বিএফ ৭ শনাক্ত হয়েছে। এই ধরন ওমিক্রনের চেয়ে শক্তিশালী। কম সময়ে এই ধরন বেশি মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। যারা টিকা নেননি তাদের দ্রুত টিকা নিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বুস্টার বা চতুর্থ ডোজ টিকা দেয়া শুরু করেছে। বিশেষ করে সম্মুখসারীর ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, ষাটোর্ধ্ব নাগরিক, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে টিকার চতুর্থ ডোজ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

ডা. কবীর বলেন, করোনার নতুন ধরন ভারতেও শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশের সকল বন্দরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের বিচ্ছিন্নকরণ বা আইসোলেশনে নেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের নমুনার জেনোমিক সিকোয়েন্সিং করে এফবি ৭ করোনা ভাইরাস রয়েছে কি না তার জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, করোনার নিয়ন্ত্রণ সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পর্রামশক কমিটি সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম ও করোনার টিকা ব্যবস্থা কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হক প্রমুখ।

The post করোনার নতুন ধরন নিয়ে সরকার সতর্ক appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/cfpQNZv

Tuesday, December 20, 2022

তিন মাসে তারল্য কমেছে ২৭,১৫১ কোটি টাকা

ফাতেহ ডেস্ক:

অস্বাভাবিকভাবে কমেছে ব্যাংক খাতের তারল্য। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে তারল্য কমেছে ২৭ হাজার ১৫১ কোটি টাকা।

গত বছরের জুন শেষে ব্যাংকে মোট তারল্য ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকায়। তবে গত অক্টোবরে এসে তারল্য কিছুটা বেড়েছে।

ওই সময়ে মোট তারল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকায়। এ হিসাবে গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই চার মাসে তারল্য কমেছে ২৬ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে ব্যাংকিং খাতে তারল্য কমার জন্য চারটি কারণকে শনাক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এগুলো হচ্ছে-করোনার পর হঠাৎ করে চাহিদা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে বাড়তি প্রবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার কারণে আমদানি ব্যয়ের মাত্রাতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি ও ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলে গ্রাহকরা নিজেদের হাতে রাখার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া।

The post তিন মাসে তারল্য কমেছে ২৭,১৫১ কোটি টাকা appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/i8I1fXq

Thursday, December 15, 2022

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়ানো হলো সুদের হার

ফাতেহ ডেস্ক:

মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানতে সুদের হার আরেক দফা বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ ডিসেম্বর থেকে সুদের এই হার হবে ৪.৫০%। করোনা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধজনিত কারণে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় সর্বত্র। এ অবস্থায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সুদের হার গত ২৭ জুলাই পয়েন্ট ৭৫% বাড়ানো হয় ২.৫%। এরপরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না ঘটায় ২১ সেপ্টেম্বর সুদের হার বাড়িয়ে করা হয় ৩.২৫ ডলার।

গত ২ নভেম্বর সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪.০০ ডলার। ১৪ ডিসেম্বর করা হয় ৪.৫০ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি-নির্ধারকদের দু’দিনব্যাপী বৈঠকের পর ১৪ ডিসেম্বর ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েল সাংবাদিকদের জানান, মুদ্রাস্ফীতির পাগলা ঘোড়ার গতি কিছুটা স্থিমিত হলেও আমি সন্তুষ্ট নই। সেজন্যে আবারও সুদের হার বাড়ানো হলো। এবং এটাই শেষ নয়। সামনের বছরের শেষে সুদের হার আরও বাড়ানো হবে যদি গতি-প্রকৃতি পরিবর্তিত না হয়।

উল্লেখ্য, ২ নভেম্বর থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। তবে তা প্রত্যাশার পরিপূরক নয়। এদিকে, সুদের হার ক্রমাগতভাবে বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে হাউজিং মার্কেটে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এমনকি নতুন বাড়ি নির্মাতারাও হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী ব্যতিত অন্য সেক্টরে এক ধরনের মন্দা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালেও সুদের হার বৃদ্ধির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সুবাতাস বইতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে।

The post যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়ানো হলো সুদের হার appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/48VvGEQ

Tuesday, November 15, 2022

কওমি মহিলা মাদরাসা: শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য-বিপর্যয়ে শঙ্কায় শিক্ষকরা

রাকিবুল হাসান নাইম:

কওমি মহিলা মাদরাসায় ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে শঙ্কায় আছেন শিক্ষকরা। সঠিক আবাসন ব্যবস্থার অভাব এবং ছাত্রীদের অবহেলার কারণে এই শঙ্কা দিনদিন বাড়ছে। শঙ্কা থাকলেও শঙ্কা নিরসনে তেমন উদ্যোগ নিচ্ছেন না মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। মহিলা মাদরাসার শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তারা বলছেন, এখানে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের যেমন অবহেলা রয়েছে, তেমনি ছাত্রীদেরও অবহেলা রয়েছে। দু পক্ষেরই এ বিষয়ে উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

সমস্যা কোথায়?

এ প্রসঙ্গে কথা হয় মাদরাসাতুল মদীনা বগুড়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতী মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি এক মহিলা মাদরাসায় স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনাও করেছেন। তিনি ফাতেহকে বলেন, মহিলা মাদরাসায় স্বাস্থ্য সচেতনতা একদমই কম। প্রথমত, মাদরাসার পক্ষ থেকে ছাত্রীদেরকে কখনও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কথা হয় না। দ্বিতীয়ত, ছাত্রীরা পবিত্রতার আধুনিক পদ্ধতিগুলো জানে না। তৃতীয়ত, মাদরাসা কর্তৃপক্ষেরও কোনো পরিকল্পনা নেই, মেয়েরা তাদের মাসিকের সময় কীভাবে কোথায় থাকবে, পরিচ্ছন্ন হবে। দরকার হলে কোথায় প্যাড পাবে। এসব নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। চতুর্থত, মেয়েদের এই বাড়ন্ত বয়সে পুষ্টির দরকার হয় বেশি। কিন্তু তারা খাবারে সেই পুষ্টি পায় না। মাদরাসাও সরবরাহ করে না। ছাত্রীরা নিজেরাও খায় না। ফলে মাদরাসার ছাত্রীদের বিভিন্ন শারীরীক সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি, ছাত্রীরা তাদের রোগের কথা পরিবারকেও বলে না, ডাক্তারদেরও বলে না। ফলে সমস্যা বাড়তে থাকে।

কথা হয় মুনীরুল ইসলাম আরাবির সঙ্গে। তিনি ফাতেহকে বলেন, আমি বালক মাদরাসার পাশাপাশি বালিকা মাদরাসায়ও কিছুদিন খেদমতে ছিলাম ৷ এসব ব্যাবস্থাপনা খুব কাছ থেকে দেখা এবং বুঝার সুযোগ হয়েছে৷ চান্দিনায় সবচে উন্নতমানের আবাসন ব্যাবস্থা ছিল আমাদের ৷ প্রথম বছর প্রায় দুইশো ছাত্রী ভর্তি হয় ৷ তার কারণ হলো, আমাদের বালক মাদরাসার লেখাপড়া এবং স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন ব্যাবস্থার সুনাম ছিল ৷ অনেক অভিভাবককে দেখেছি, মেয়েদের ভর্তি করার পূর্বে তারা প্রতিষ্ঠানের আবাসন ব্যাবস্থা দেখতে আসেন ৷ তাদের কমন একটা অভিযোগ হলো, এর আগে যে মহিলা মাদরাসায় গিয়েছে কোথাও আবাসন ব্যাবস্থা ভালো পায়নি ৷ ফলে অনেক সচেতন অভিভাবক মহিলা মাদরাসা থেকে ফিরে আসেন ৷

তিনি আরও বলেন, মহিলা মাদরাসার সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও লেখাপড়ায় গতি হারাচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় ৷ আমাদের কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলায় চারটা দাওরা হাদীস মহিলা মাদরাসার পাশাপাশি প্রায় ৬৫টি মহিলা মাদরাসা আছে ৷ ছেলে মাদরাসা আছে ১১৮-এর অধিক ৷ এগুলো আবার থানা ভিত্তিক মাদরাসা সংগঠনের আওতাভুক্ত ৷ তার বাইরে বেহিসেবি আরো মাদরাসা আছে ৷ হাতেগোনা কয়েকটি স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়া বাকি সবগুলো প্রাইভেট মাদরাসা। অধিকাংশ মাদরাসার আবাসন ব্যাবস্থা খুবই নাজুক ৷ অল্প জায়গায় অধিক ছাত্রী ভর্তি করার ফলে পড়ালেখার পাশাপাশি থাকা-খাওয়া ঘুমেও নানাবিদ সমস্যায় জর্জরিত ৷ আর এসব সমস্যা প্রকটভাবে ফুটে উঠে ঋতু পরিবর্তেনর সাথে সাথে ৷ বিশেষ করে গরমকালে এসব মাদরাসার অবস্থা হয় ভয়াভহ ৷ বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে পুরো মাদরাসায় ৷

এসবের জন্য তিনি অনেকাংশে দায়ী করেন মাদরাসার পরিচালকদের। তার মতে, এসব সমস্যা দূর করতে কওমি মাদরাসার অভিভাবক বেফাক উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে ৷ থানা কিংবা জেলায় জেলায় পরিচালকদের নিয়ে কাউংসিলিংয়ের ব্যাবস্থা করলে কিছুটা হলেও ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি ৷ তবে পরিচালকদের সদিচ্ছা, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা, এবং খেদমতে মানসিকতা না থাকলে এসব থেকে উত্তরণ কখনো সম্ভব না ৷

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি থানার এক মহিলা মাদরসার প্রাক্তন শিক্ষক আবু ইয়সির ফাতেহকে বলেন, মহিলা মাদরসায় খাদ্য সচেতনতা কম। ঢালাও ভাবে বেসিক কয়েকটি খাদ্য সারা বছর খাওয়ানো হয়। যেমন আলু , লাউ, বেগুন, শুটকি, পাংগাস, পল্টি মুরগি, তেলাপিয়া ইত্যাদি। এসব খাদ্যের মধ্যে যেই পুস্টিগুণ রয়েছে, সেগুলো ছাড়া বাকিগুলোর ঘাটতির কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তা ছাড়া বেশির ভাগ মেয়েদের মধ্যে অপরিস্কার থাকার মানসিকতা প্রবল। আমি যখন মহিলা মাদ্রাসার নাজেমে তালিমাত ছিলাম, এমন কোন দিন ছিল না যেদিন গড়ে ১০ জনকে হাসপাতালে নিতে হয়নি। আমার রুমে ছোট একটা ফার্মেসি দিয়ে রাখার পরেও।

সমস্যা নিরসনে পরামর্শ

মিরপুর ১২ নম্বরস্থ জামিয়া মিল্লিয়া মাদানীয়া আরাবিয়া আজমা মহিলা মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম মুফতি ইমরান কাসেমীর সঙ্গে কথা হয়। তার মাদরাসায় ১২০০ ছাত্রী রয়েছে। এ সমস্যা স্বীকার করে তিনি বলেন, করোনার পর আমার মাদরাসায় একজন ডাক্তার রেখেছিলাম। তিনি সপ্তাহে দুদিন এসে ছাত্রীদের ওষুধ দিতেন, কার কী সমস্যা শুনতেন। এখন আর নেই। করোনার পর থেকে এই সেবাটা বন্ধ। তবে সবসময় তিনি তৎপর আছেন।

তিনি বলেন, মেয়েদের বড় কোনো রোগ না হলে কর্তৃপক্ষের কাছে খবর আসে না। তাই কোনো শিক্ষিকাকে এটার জন্য নিয়োগ করতে হয়। আমি সেটা করেছি। তারা যেন খবর নিয়ে আমাকে জানায়। সব মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট একজন ডাক্তার রাখতে পারেন। সাপ্তাহিক কিংবা মাসিক চেকাপের ব্যবস্থা করতে পারেন। তাহলে সমস্যাটা সহজেই ধরা পড়বে। ছাত্রীরাও রোগ নিয়ে বসে থাকবে না।

আবাসন ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা ঠিক, অনেক মাদরাসা এখন এত সংকীর্ণ জায়গায় গড়ে উঠে, ছাত্রীদেরকে বড় কোনো স্পেস দেয়া যায় না। তাই চেষ্টা করতে হবে, যতটুকু জায়গা আছে, তা পরিস্কার রাখা। ছাত্রীদেরকে এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে যত্মবান হতে হবে। কারণ মেয়েরা এমনিতেই সংবেদনশীল। পুরুষের মতো অতটা শক্তপোক্ত নয়। তাই তাদেরকে কিভাবে পুষ্টিকর খাবার দেয়া যায়, তার চিন্তাও করতে হবে।

The post কওমি মহিলা মাদরাসা: শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য-বিপর্যয়ে শঙ্কায় শিক্ষকরা appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/M2yenHk

Monday, November 14, 2022

ভীতি-বিতর্কের টানাপোড়েন : কেমন কাটবে এবারের ‘মাহফিল মৌসুম’

রাকিবুল হাসান নাঈম:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের মাহফিলের মওসুম সাবধানতার সঙ্গে কাটাতে হবে ওয়ায়েজদের। ওয়াজে সরকারবিরোধী কথা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। নতুবা বাঁধতে পারে বিপত্তি। এমনকি সরকার মাহফিলের উপর খড়গহস্ত হতে পারে বলেও শঙ্কা করছেন ওয়ায়েজগণ। তারা বলছেন, ওয়ায়েজগণকে যার যার জায়গা ও সক্ষমতা বুঝে কথা বলতে হবে। ভাইরাল হবার জন্য অসংযত কথা বললে ঘটতে পারে বিপদ।

ওয়ায়েজদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ মৌসুমে এখনও তারা কোথাও কোনো বাধার সম্মুখীন হননি। তবে আগামী নির্বাচনের বিষয়টি তাদের মাথায় আছে।

ওয়ায়েজদের শঙ্কার জায়গা

ওয়ায়েজদের শঙ্কার প্রধান জায়গা আগামী নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু বিধি-নিষেধ এমনিতেই থাকে। তাছাড়া রাজনীতির ময়দানেও শুরু হয়েছে চঞ্চলতা। সবদিক মিলিয়ে এই শঙ্কাটা তৈরী হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ওয়ায়েজ মুফতি ইমরান হোসাইন কাসেমি ফাতেহকে বলেন, আগামী নির্বাচনের বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে। শুধু কথা বললেই হবে না। আমি এক মঞ্চে সরকারবিরোধী কথা বলে দিলাম। কথা বলে দিলেই হলো না। তারপর কী পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে, তারও ধারণা থাকতে হবে। সুতরাং প্রত্যেক ওয়ায়েজ তার সক্ষমতার জায়গাটুকু জানেন। যে যার সক্ষমতা অনুযায়ী কথা বলবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে কোনো ইস্যু এলে তার কথা ভিন্ন। তখন সবাই এক প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলে। তখন ইস্যু নিয়ে কথা বললে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। কিন্তু এখন তো সেই পরিস্থিতি নেই। কথা বলতে হবে একা। আমি একা কথা বলার কারণে যদি মাহফিলই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তো কুরআন-হাদীসের কথা মানুষের কাছে যাওয়ার পথই বন্ধ হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা ইবরাহিম খলীল বিক্রমপুরী ফাতেহকে বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে সব অঙ্গনেই প্রভাব পড়েছে হালকাভাবে। তা দিন যত এগুবে, এই প্রভাব বাড়বে। মাহফিলের অঙ্গনেও প্রভাব পড়বে। তা ইতিবাচক হোক কিংবা নেতিবাচক। ওয়ায়েজদের উচিত হবে একটু ভেবেচিন্তে কথা বলা। সবদিক বিবেচনা করে।

শঙ্কামুক্ত জোন কোনটা?

ওয়ায়েজদের মতে, সরকারবিরোধী কথা পরিহার করতে হবে। তাহলে কি দুর্নীতি, দেশজুড়ে তৈরী হওয়া সঙ্কট নিয়ে কথা বলবেন না ওয়ায়েজগণ?

মুফতি ইমরান হুসাইন কাসেমি ফাতেহকে বলেন, ব্যাপারটা এমন না। বরং সব সঙ্কট ও দুর্নীতি নিয়েই কথা বলতে হবে। কথা বলতে হবে আসন্ন দুর্ভিক্ষ নিয়ে। কিন্তু বলতে হবে কৌশলে। মার্জিত ভাষায়। ভাষা যেন আমাদের দাঈর ভাষা হয়, আক্রমণের ভাষা না হয়। একজন দাঈ মানুষকে ভালোর কথা বলেন, মন্দ থেকে দূরে থাকার কথা বলেন। দাঈর ভাষা আক্রমণাত্মক নয়।

আপনি কোন বিষয়ে ওয়াজ করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গত দুমাস ধরে মাহফিল করছি। কোথাও বাধার সম্মুখীন হচ্ছি না। আমি সাধারণত কথা বলি ফাজায়েল ও মাসায়েল নিয়ে। তাতে মানুষ উদ্ধুব্ধ হয়ে আমল করে, শুদ্ধ হয়। কিছু জানতে পারে। কিন্তু কুরআন হাদিস থেকে কথা না বলে যদি বিভিন্ন জনের উপর ক্ষোভ ঝারতে থাকি, তাহলে মানুষ আমার থেকে কী খোরাক পাবে? সামান্য সময়ের উত্তেজনা পাবে, দীর্ঘমেয়াদী দ্বীনি প্রভাব তার মধ্যে পড়বে না। তাই এই সময় সব ওয়ায়জদের উচিত, কুরআন-হাদিস থেকে কুরআন হাদীসের মতো মার্জিত ভাষায় কথা বলা। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা।

আয়োজক ও ওয়ায়েজদের কর্তব্য

এই মাহফিলের মৌসুম বাধাহীন থাকার জন্য আয়োজক ও ওয়ায়েজ দু দলকেই চেষ্টা করতে হবে বলে মনে করেন মাওলানা ইবরাহিম খলীল বিক্রমপুরী। তিনি ফাতেহকে বলেন, ‘দু পক্ষকেই চেষ্টা করতে হবে মাহফিল বাধাহীন রাখার জন্য। যারা মাহফিলের আয়োজন করবেন, তাদের উচিত হবে প্রথমেই মাহফিলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ঠিক করে নেয়া। কেন মাহফিল করছে। আয়োজকদের প্রচেষ্টায় মাহফিলের পঞ্চাশ শতাংশ সমস্যা দূর হয়ে যায়।’

ওয়ায়েজদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওয়ায়েজদের উচিত হবে সংযত হয়ে কথা বলা। স্বেচ্ছাচারী কথা না বলা। তারা যদি বিষয়ভিত্তিক ওয়াজ করেন, তাহলে আরও পঞ্চাশ শতাংশ সমস্যা দূর হয়ে যাবে। নির্বাচনী ডামাডোলে মাহফিলের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ওয়ায়েজগণ যদি সংযত না হন, তাহলে মাহফিলের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।’

The post ভীতি-বিতর্কের টানাপোড়েন : কেমন কাটবে এবারের ‘মাহফিল মৌসুম’ appeared first on Fateh24.



from Fateh24 https://ift.tt/lQh8v2V